ডেস্ক

ঠাকুরগাঁওয়ে বেড়েছে শীতজনিত রোগ, ২৮ শয্যায় ভর্তি ১৩৫ জন শিশু

প্রকাশিত: ৮:৫৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২১

উত্তরের জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে দ্বিতীয় দফায় শৈত্য প্রবাহ আর হিমেল হাওয়ায় জনজীবন কাবু হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই সূর্যের দেখা নেই এই জেলায়। ঘন কুয়াশা আর কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এ জেলার মানুষ , ব্যহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা।

শৈত্যপ্রবাহে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে বেড়ে চলেছে শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যা। হাঁড় কাঁপানো শীতে শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া, জ্বর ,ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের। গত একসপ্তাহে শীতজনিত রোগে ঠাকুরগাও আধুনিক সদর হাসপাতালে ২৮ শয্যার বিপরিতে ভর্তি হয়েছে ১৩৫ জন শিশু রোগী। স্বাভাবিক অবস্থার চাইতে কয়েকগুন বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায় সেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছেন নার্স ও চিকিৎসকরা। এ অবস্থায় শিশুদের সুস্থ রাখতে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। জেলা কৃষি বিভাগ তথ্য মতে জেলায় গত এক সপ্তাহে গড় তাপমাত্রা ছিলো সর্বোচ্চ ১৮ ডি:সে: এবং সর্বনিন্ম ৯ ডি: সে:।

সদর উপজেলা ছিটচিলারং গ্রামের সোনালি বেগম জানান, প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারণে তার ছয়মাস বয়সী শিশুকন্যার ডায়রিয়া হওয়ায় তাকে রবিবার রাতে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। চিকিৎসক বলেছে অত্যাধিক ঠাণ্ডার কারণে এমন হয়েছে। সুস্থ হতে আরো দুই-একদিন সময় লাগতে পারে।একই বিভাগে আরেক শিশুর অবিভাবক আকবর হোসেনের সাথে কথা হয়। তিনি সদর উপজেলা সালান্দর থেকে তার একবছর বয়সী বাচ্চাকে নিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি বলেন, কনকনে ঠাণ্ডার কারণে তার সন্তানের পাতলা পায়খান ও সাথে বমি হচ্ছে।

গত শনিবার থেকে হাসপাতালে রয়েছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খাওয়াচ্ছেন সাথে স্যালাইন চলছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে তার সন্তান অনেকটা সুস্থ হয়েছে।আরেক ভর্তি শিশুর অবিভাবক বালিয়াডাঙ্গী কাশুয়া গ্রামের ইয়াসমিন আক্তার জানান, হাসপাতালে চিকিৎসকরা যথেষ্ট মানবিক। অত্যাধিক রোগীর ভীড়েও তারা প্রত্যেকটি শিশুর খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. সাজ্জাদ হায়দার শাহীন জানান, শীত মৌসুমে এ জেলায় প্রতিবছরই একই চিত্র দেখা যায়।

তিনি আরো জানান, এ সময় শিশুদের সবসময় ঘরের ভিতর রাখতে হবে। দেড় বছরের বেশি বয়সি শিশুদের গরম খাবারের সাখে গরম শুকনা খাবার খাওয়াতে হবে ও ঠাণ্ডা থেকে দূরে রাখতে হবে। আর ১ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুদের মায়ের দুধের পাশাপাশি হালকা শুকনা খাবার দিতে হবে।

ঠাণ্ডার কারণে পাতলা পায়খানা, শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনো সমস্যা হলে দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।শীত মোকাবেলায় হতদরিদ্রদের কষ্ট লাঘবে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে বিতরণ করা হচ্ছে কম্বল সহ শীতবস্ত্র। ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক ড. কে এম কামরুজ্জামান সেলিম জানান, শীত মোকাবেলায় জেলায় সরকারিভাবে এ পর্যন্ত ২৬ হাজার কম্বল ও ৩০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। সদর উপজেলাসহ অন্যান্য উপজেলায় প্রাপ্ত কম্বল ও ৬ লক্ষ করে বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে।

হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সরকারিভাবে যে অর্থ ও কম্বল এসেছে তা জেলায় জনসংখ্যার তুলনায় খুবই সামান্য। তাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে আরো শীতবস্ত্রের জন্য চাহিদা পাঠানো হয়েছে।

সূত্র (কালেরকণ্ঠ)


সম্পাদক

মোঃ আবুল হাসান মোবাইল নাম্বার 01860003666

বার্তাকক্ষ

মোবাইল নাম্বার 09638870180