ডেস্ক

বাংলাদেশে ভয়ংকর পিঁপড়ার সন্ধান

প্রকাশিত: ৯:১১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২, ২০২১

ক্ষতিকর এক প্রজাতির পিঁপড়ার জন্মস্থান খুঁজতে খুঁজতে কয়েক বছর আগে বাংলাদেশে এসে তাদের সন্ধান পেয়েছেন হার্ভার্ড গবেষক ওয়ারিং ট্রাইবল।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির অফিসিয়াল নিউজ সাইট হার্ভার্ড গেজেটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত-পাকিস্তান হয়ে বাংলাদেশে এসে ওই পিঁপড়ার খোঁজ পান ওয়ারিং।

পৃথিবীর অধিকাংশ পিঁপড়াই দ্রুত বংশ বিস্তারে সক্ষম ক্ষতিকর প্রজাতির। এদের বেশ কিছু প্রজাতি মানুষের নানা ধরনের কর্মকাণ্ডে পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়েছে। তাদের সহজাত আচরণ সম্পর্কে বিশদ জানতে পারলে বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করেন ওয়ারিং।

ওয়ারিং তার অনুসন্ধানের বিস্তারিত গত জুনে বায়োলজি লেটারসে প্রকাশ করেন। ওয়ারিং তার আর্টিকেলে বলেছেন, ক্লোনাল রাইডার অ্যান্ট নামের এই প্রজাতি বাংলাদেশ থেকেই পৃথিবীতে ছড়িয়েছে। আমরা প্রজাতিটির নিকটতম বিবর্তনীয় আত্মীয় খুঁজতে চেয়েছিলাম, যাতে ল্যাবে তাদের নিয়ে গবেষণা করা যায়।

পিঁপড়াদের নিয়ে নানাবিধ গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ওয়ারিং জানান, মানুষের মাধ্যমে পৃথিবীর অন্য দেশে যারা ছড়িয়েছে তাদের বাদ দিয়ে নিজেদের জন্মস্থানে পিঁপড়াগুলোকে শনাক্ত করা গেলে সহজাত বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও ভালো জানা যায়। কী কারণে তারা এত আক্রমণাত্মক সেটি ভালো বোঝা যায়।

ওয়ারিং তার সহকর্মী শন ম্যাকেনজিকে নিয়ে এই পিঁপড়ার সন্ধানে বের হন। প্রফেসর ড্যানিয়েল জে.সি. ক্রোনাউরের ল্যাবে ম্যাকেনজির সঙ্গে কাজ করার সময় তারা ভারতে প্রায় একই ধরনের একটি পিঁপড়া শনাক্ত করেন। এটিকে তারা প্রথমে ক্লোনাল রাইডার ভেবেছিলেন। কিন্তু পরে বুঝতে পারেন প্রজাতিটি আলাদা। তখন তারা ল্যাবে পাওয়া জেনেটিক ডেটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে ধারণা করেন ১ হাজার ২৪০ মাইলের কাছাকাছি এদের আসল প্রজাতি থাকতে পারে।

গবেষণার জন্য পাকিস্তান, ভারত এবং নেপালকে বেছে নেয়ার পর ওয়ারিংরা থিতু হন বাংলাদেশে। বড় বড় সমুদ্রবন্দর থাকায় এই অঞ্চলকে ঘিরে তারা আসল প্রজাতি পাওয়ার স্বপ্ন দেখেন।

গবেষকদের ধারণা, অন্ধ এবং ভূগর্ভস্থ এই পিঁপড়া বন্ধর দিয়েই পৃথিবীতে ছড়িয়েছে। নাবিকদের নোঙরে লেগে থাকা মাটির সঙ্গে পিঁপড়াগুলো বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে থাকতে পারে।

প্রজাতিটির কোনো রানি নেই। শ্রমিক পিঁপড়ার ভ্রূণ গর্ভনিষেক ছাড়াই বেড়ে উঠলে এরা জন্ম নেয়। ২ মিলিমিটার লম্বা এই পিঁপড়া দেখতে ‘গাট্টাগোট্টা’। চোখহীন। হুল সমৃদ্ধ।

পিঁপড়াগুলো অন্যদের বাসস্থান খুঁড়ে খুঁড়ে বসতি গড়ে তাদের ডিম, লার্ভা খেয়ে ফেলে বলে এদের রাইডার বলা হয়।

জুনে প্রকাশিত আর্টিকেলে ওয়ারিং লিখেছেন, পিঁপড়াগুলোকে নিয়ে কোনোমতে ল্যাবে ফিরে জিন নকশা উন্মোচন করতে সক্ষম হই। প্রজাতিটির উৎস আসলেই বাংলাদেশ কি না, সেটি বোঝার চেষ্টা করি আমরা।

বিশ্লেষণে তারা সাতটি বংশ পান। এর মধ্যে দুটি ইতোমধ্যে পৃথিবীর অন্য অঞ্চলে পাওয়া গেছে। বাকি পাঁচটি কোথাও দেখা যায়নি। আরও নানাভাবে গবেষণার পর তারা নিশ্চিত হন, এগুলোর জন্ম বাংলাদেশেই।


সম্পাদক

মোঃ আবুল হাসান মোবাইল নাম্বার 01860003666

বার্তাকক্ষ

মোবাইল নাম্বার 09638870180