খুলনা

গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল

প্রকাশিত: ৪:১০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২১

খুলনায় গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল। প্রায় সব জায়গায় চোখে পড়ছে মুকুলে ছেয়ে যাওয়া অসংখ্য আমগাছ। এভাবে ফাগুনের আগেই গাছে গাছে প্রস্ফূটিত আমের মুকুল সর্বত্র ছড়াচ্ছে হাল্কা স্বর্ণালী আভা।

আম চাষি ও বাগান মালিকরা বলছেন, মাঘের মাঝামাঝিতে গাছে মুকুল দেখে তারা বুঝছেন, আমের মৌসুম এসে যাচ্ছে। বাগানের গাছগুলোর যত্ন নিতে পরিশ্রম শুরু করে দিয়েছেন। ভালো ফলনের আশায় বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত তারা। খুলনা নগর ও জেলার বিভিন্ন এলাকাজুড়ে এখনো শীতের আমেজ বিরাজ করলেও আগাম জাতের আমগাছে মুকুল আসতে শুরু করেছে।

এবার তীব্র শীতের শেষে বসন্ত আসবে। তার আগে গাছে গাছে ফুটেছে নানা রঙের ফুল। আমগাছের শাখাগুলো ভরা উজ্জ্বল সোনালী মুকুল যেন আকাশের বুকে ডানা মেলে দিয়েছে। দালানে ঠাসা এ স্বল্পবৃক্ষের খুলনা শহরে মুকুলে ছেয়ে যাওয়া আমগাছগুলো আলাদা শোভা ছড়িয়েছে। সবুজ পাতার কিনার ছাপিয়ে ওঠা মুকুলের সোনালী রেণু যেন ফুলশয্যা সাজিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে বসন্তকে।

খুলনা মহানগরীর খালিশপুর এলাকার বেসরকারি একটি কোচিং সেন্টারের সামনে আমের মুকুল শোভা ছড়াচ্ছে। কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে দাঁড়িয়ে খোশগল্পে মেতেছিলেন।

খুলনা সরকারি আযম খান কমার্স কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ-আল নোমান বলেন, বছরের এ সময়ের প্রকৃতি আমার কাছে সবচেয়ে ভালো লাগে। নগরজুড়ে হরেক রকমের ফুল ফোটে। আমের মুকুল বাতাসে দোল খায়। দেখলেই যেন মনটা ভালো হয়ে যায়।

এসব মুকুল অনেকের মনে শৈশবের স্মৃতি নাড়া দেয়। নিয়ে যায় ছোটবেলার সে হারানো দিনগুলোর কাছে। টুটপাড়া পুরাতন পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার পঞ্চাশোর্ধ্ব শেখ সাব্বির আহমেদ বলেন, সাতক্ষীরায় আমার বাড়ি। ছোটবেলা থেকেই আমের সঙ্গে বড় হওয়া। ঝড়ঝাপটা হলে বন্ধুরা মিলে ব্যাগ হাতে বৃষ্টি মাথায় নিয়েই ছুটতাম আম বাগানে। এখন আর বাড়ি যাওয়া হয় না। আমের মুকুল দেখলে শৈশবের সে স্মৃতিগুলো ফিরে আসে।

কৃষি কর্মকর্তারা বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই আবহাওয়াগত ও জাতের কারণেই মূলত আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। গাছে গাছে আমের মুকুল। প্রতি বছরই কিছু আমগাছে আগাম মুকুল আসে। এবারো আসতে শুরু করেছে। তীব্র শৈত্যপ্রবাহের কবলে না পড়লে এসব গাছে আগাম ফলন পাওয়া যায়। আর আবহাওয়া বৈরী হলে ফলন মেলে না। তবে নিয়ম মেনে শেষ মাঘে যেসব গাছে মুকুল আসবে সেসব গাছে মুকুল স্থায়ী হবে।

শহর ঘুরে সবচেয়ে বেশি আমের মুকুল দেখা গেছে, নিরালা, শের-এ-বাংলা রোড, বি কে রায় রোড, নর্থ খাল ব্যাংক রোড, খান জাহান আলী রোড, মুজগুন্নী, খালিশপুর ও দৌলতপুর এলাকার গাছগুলোতে। কোনো কোনো গাছে আমের মুকুল থেকে বেরিয়েছে ছোট ছোট আমগুটি।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, বেশ কিছু এলাকার গাছে গাছে ফুটেছে ফুল, আগাম মুকুলে ছেয়ে গেছে আমগাছ। কোনো কোনো গাছে আমের মুকুল থেকে বেরিয়ে এসেছে ছোট ছোট আম। আবহাওয়া পরিবর্তন অর্থাৎ যে আবহাওয়াটা মুকুল হওয়ার জন্য দরকার সেটা আগেই পেয়েছে সেজন্য আগাম মুকুল এসেছে।

তিনি আরো বলেন, ডুমুরিয়া উপজেলার ছোট বড় মিলে প্রায় ৪০০ হেক্টর জমির আম বাগানে বিভিন্ন প্রকারের আম রয়েছে। তবে দিন দিন লাভের কারণে বাগান ও আমগাছ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দৌলতপুর এলাকার আমচাষী মো. শফিকুল সরদার বলেন, এখনও সব গাছে মুকুল আসেনি। কয়েকদিনের মধ্যেই মুকুল আসবে। তবে তীব্র শীতে যেসব গাছে মুকুল এসেছে, তা থেকে ফল হবে কি না-এ নিয়ে শঙ্কায় আছি।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, আবহাওয়াগত ও জাতের কারণেই মূলত আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। প্রায় ২৫ শতাংশ আম গাছে মুকুল এসেছে। আগামী মাসের মধ্যে সব গাছে মোটরদানার মতো আমের গুটি চলে আসবে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে বাগান মালিক ও চাষিরা এবার লাভবান হবেন।

তিনি আরো বলেন, হালকা থেকে মাঝারি ধরণের কুয়াশা রয়েছে, এতে মুকুলের কোনো ক্ষতি হবে না। মূলত কার্বোহাইড্রেট ও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলে মুকুলের ক্ষতি হয়।


সম্পাদক

নির্বাহী সম্পাদকঃ মাসুদ রানা পলক প্রকাশক মোঃ আবুল হাসান মোবাইল নাম্বার 01860003666

বার্তাকক্ষ

মোবাইল নাম্বার 09638870180