ডেস্ক

প্রেমে পড়া বারণ… কেন মানুষ প্রেমে পড়তে ভয় পান?

প্রকাশিত: ৩:০০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২১

প্রেমে পড়া বেশিরভাগ মানুষের কাছে এক উত্তেজনাপূর্ণ এবং মনোরম অভিজ্ঞতা। রোমান্টিক প্রেমে, তীব্র যৌন আকর্ষণ এবং অর্থপূর্ণ বন্ধুত্ব থাকে, যা ব্যক্তিগত বিকাশে সাহায্য করে। তাহলে কেন এত মানুষ প্রেমে পড়তে ভয় পান?

প্রেমে পড়ার ভয়ের অন্তর্নিহিত কারণগুলি

১) প্রেমে পড়ার ভয়ে (ফিলোফোবিয়া), কারোর প্রতি তীব্র আকর্ষণ বোধ এবং গভীর বন্ধন অর্জনের চাহিদা পূরণে, একটা ব্যর্থতার উদ্বেগ কাজ করে। প্রত্যাক্ষিত হওয়ার ভয় এক্ষেত্রে ভীষণভাবে কাজ করে এবং এর সাথে নিজের মর্যাদা হারানোর ভয় জড়িত থাকে।

২) কারোর প্রতি সম্পূর্ণ মানসিক এবং শারীরিক ভাবে নির্ভরশীল হওয়ার পরে, সে যদি হতাশ করে, সেই ভয় থেকে মানুষ পিছিয়ে আসে। ভয়টি প্রেমে পড়ার নয়, একটি অসম ভালবাসার।

৩) প্রেমে পড়ার ভয় আসলে অন্তরঙ্গতার ভয়, ঘনিষ্ঠতার ভয়। অনেক সময় আমরা মনে করি কারো সাথে ঘনিষ্ঠ এবং অন্তরঙ্গ হলে, কথাও হয়তো আত্মবিসর্জন দেওয়ার একটা ঝুঁকি থেকে যাবে। নিজের নিজেকে, স্বপ্ন, ইচ্ছে, অধিকার হারানোর ভয়, এখানে কাজ করতে পারে।

৪) কোনো শৈশবের ট্রমা বা অবহেলা, অপব্যবহার এবং পিতামাতার অসুস্থতা বা মৃত্যুর মতো ব্যক্তিগত কারণগুলি থেকও ভয় জন্মায়।

৫) উপযুক্ত ব্যক্তির সন্ধান করা সাধারণত একটি দীর্ঘ, বেদনাদায়ক এবং হতাশাবোধক অনুসন্ধানের সাথে জড়িত থাকে। এবং অভিজ্ঞতা আমাদের শেখায় যে ভাল ফলাফলগুলি সাধারণত সংক্ষিপ্ত হয়, এর পরে দুঃখ এবং হতাশার একটা সময় আসতে পারে।

৬) অনেক সময় প্রেমের বাস্তবায়ন জটিল এবং সমাজের পরিপ্রেক্ষিতে অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। যখন মানুষ সমাজের চোখে নিজেকে বিচার করতে থাকে, তখন ‘কে কি বলবে’ বা ‘কে কি ভাববে’ এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পিছিয়ে আসে।

কি করবেন –

১) নিজের অনুভূতির মুখোমুখি হন। নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনি আসলে কিসের ভয় পাচ্ছেন। সেই জায়গাটা খতিয়ে দেখুন।

২) উপযুক্ত সঙ্গী খোঁজার চেষ্টা থেকে বিরত হয়ে নিজেকে সর্বতোভাবে উন্নতি করার চেষ্টা করুন। নিজের কোন দিকটা আপনার ভাল লাগে বা নিজের কোন দিকটা আপনার পছন্দ, সেইটার আরো বিকাশ ঘটানোর চেষ্টা করুন।

৩) ভালোবাসা মানে একটা স্বপ্নের মতো কিছু বা একজন স্বপ্নের মানুষ এসে আপনার সব চাহিদা মেটাবে, এই ধরনের ধারণা মন থেকে মুছে ফেলুন। কাউকে ভালোবাসা এবং গ্রহণ করা মানে, তার ভালো এবং মন্দ সবটা নিয়ে তাকে গ্রহণ করা, এই ধারণাটা রাখতে হবে।

৪) দুটি বিষয় আমাদের জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আরাম এবং আনন্দ। এই দুটি অনেক সময় এক পৃষ্ঠায় নাও থাকতে পারে। আমরা সব সময় কম্ফর্ট জোনে থাকতে চাই, আরাম পাওয়র জন্য। কিন্তু সেই সময় আমরা আনন্দে নাও থাকতে পারি। আমরা আমাদের কম্ফর্ট জোন থেকে বের হতে ভয় পাই, কারণ এর বাইরে, আমাদের নিয়ন্ত্রণ কম থাকে। এবং সেই জন্য আনন্দটাও সবসময় উপভোগ করতে পারিনা। কখনও কখনও পরিচিত জীবনের বাইরে দাঁড়িয়ে, নতুন কে আবিষ্কার করার যে উপলব্ধি, সেই আনন্দ পাওয়ার মানসিকতা রাখতে পারলে, জীবনে নতুন আলোর চলন দেখা যায়।


সম্পাদক

মোঃ আবুল হাসান মোবাইল নাম্বার 01860003666

বার্তাকক্ষ

মোবাইল নাম্বার 09638870180