ঠাকুরগাঁওয়ে জমি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ: আহত ১৫

প্রকাশিত: ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২১

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি- ঠাকুরগাঁওয়ে জমি নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। আহতরা ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদের মধ্যে সাইফুল ইসলাম নামের একজন গুরুতর জখম হয়েছেন।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারী রবিবার সকাল আনুমানিক ১১ টার সময় সদর উপজেলার ১১ নং মোহম্মদপুর ইউনিয়নের গিলাবাড়ি তালেবপাড়া গ্রামে সাড়ে ১৯ শতক জমি নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় মো: সাদেকুল ইসলাম বাদি হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারের অপরপক্ষের মো: রশিদুল ইসলাম(৩৫) কে প্রধান প্রধান আসামী করা হয়েছে। তিনি স্থানীয় মৃত শমশের আলীর ছেলে।

এজাহার ভূক্ত অন্যান্য আসামীরা হলেন, মো: আলিউল ইসলাম(৩৮), মো: আব্দুল ছাত্তার(৪২), মো: রুহুল আমিন(৪০), মো: শহিদুল ইসলাম(৪৩), মো: সিরাজুল ইসলাম(৪৫), মো: তৈয়বুর রহমান(৪৪),মো: হাবিবুর রহমান(২৭), মো: রুবেল রানা (২১), মো: দাউদ ইসলাম বাবলু(৪৮), মো: ফজলে রাব্বী(২১), মো: ফাহিম(২০),মোছা: সানজিদা পারভিন(২৫), মোছা: মনছুরা বেগম(৪০), মোছা: রোকসানা বেগম(৩২),মোছা: ফেন্সি বেগম(৩৫), মো: খায়রুল ইসলাম(৩৯),মোছা: জেসমিন আক্তার(৩৩), মোছা: শিল্পী বেগম(৩৬), মো: সাব্বির রহমান(২১)।
এদের মধ্যে দুজন আসামিকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন, স্থানীয় তৈবুর রহমানের ছেলে সাব্বির রহমান ও অপরজন হলেন সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো: হাবিবুর রহমান।

এজাহারকারী মো: সাদেক ইসলাম বলেন, আমি ও সাইফুল ইসলাম নামের একজন ব্যক্তি ১৬/০৭/২০২০ ইং তারিখে জেএল নং ১৭৮, সিএস ৩২৪ এস এ ৩৭২ দাগ নং ২৭৫২,২৭৫০ এ সাড়ে ১৯ শতক জমি খতিয়ানের মূল ওয়ারিশগণের কাছ থেকে পৃথক পৃথক দলিলে ক্রয় করে দীর্ঘদিন যাবৎ ভোগ দখল করে আসছি।

কিন্তু বেআইনিভাবে এই জমি পেশীশক্তি খাটিয়ে জোর পূর্বক দীর্ঘদিন ধরে দখল করার পায়তারা করে আসছে রশিদুল গং। তিনি বলেন, তারা কিভাবে জমির মালিকানা দাবি করেন সে ব্যপারে তারা কোন কাগপত্র দেখাতে পারেননা। তারা যদি আমাদের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারে আমরা জমিন ছেড়ে দেবো। তাদেরকে আপোষে ডাকা হলেও তারা সে আপোসে বসেননা। এদিকে আমরা অসহায় হওয়ার কারনে ও আমাদের দলবল না থাকায় বারবার নির্যাতনের শিকার হই।

আমাদের উপর এবারে যেভাবে হামলা করা হয়েছে এতে আমাদের অনেকে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। আমরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। তারা জমির লোভে যখন তখন আমাদের খুনও করতে পারেন।

পৈত্রিক সূত্রে জমির ওয়ারিশ মো: শাহজাহান ও মো: কামরুল ইসলামের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা কখনো রশিদুলের কাছে জমি বিক্রি করিনি। সে বলছে সে আমাদের এই খতিয়ানের অন্য ওয়ারিশের কাছে জমি ক্রয় করেছেন সে এ দলিলও কখনো দেখাতে পারেননি। এক কথায় সে যদি জমির কাগজ দেখায় সেগুলো যাচাই করে আমরা এর সমাধান দিতে পারি। কিন্তু সে তা না করে বার বার হামলা করতে আসছে। যা মানুষের প্রাণ নাশের কারন হতে পারে।

কিন্তু এ বক্তব্য গুলোর পাল্টা জবাব দিচ্ছেন এজাহারভূক্ত প্রধান আসামী মো: রশিদুল ইসলাম। তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে সে জমির মালিক দাবি করেন এবং জমি তার দখলে আছে বরে জানান। তিনি বলেন তাদের আগে ওই খতিয়ানের এক ওয়ারিশের কাছে আমরা জমি ক্রয় করেছি।

এছাড়াও জমির উপর গেলে তাদের উপর হামলা করা হয়েছে এবং তাদের অনেকেই হাসপাতালে আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছে বলেও তিনি জানান। সেই সাথে এ ঘটনায় সদর থানায় তিনি অভিযোগ করেছেন বলে দাবি করেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: শাহআলম বলেন, এ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। ঘটনার দিন আমি যখন উপস্থিত হই তখন দেখি রাস্তায় একপক্ষ অর্থাৎ সাদেকগণ লাঠি হাতে দাড়িয়ে আছেন আর অন্য পক্ষ যেভাবে আমগাছ ঝাকালে আম পড়ে সেভাবে ইটপাটকেল ছুড়ছেন।

এ সময় একটি ইট আমার গায়ের উপর অল্পের জন্য পড়েনি। এমন অবস্থায় মারামারির আশঙ্কা দেখে আমি উভয় পক্ষকে হাত উচিয়ে নিষেধ করি। কিন্তু আমার নিষেধ উপেক্ষা করে দুই পক্ষেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। আমি তখন নিজের প্রাণ বাঁচাতে একটি গলি দিয়ে চলে যাই।

এদিকে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাটি ধিক্কার জানিয়েছেন সুশিল সমাজ। সুশিল সমাজ বলছেন এসব কর্মকান্ড সমাজের শান্তি শৃঙ্খলা নষ্ট করে সমাজটাকে অস্থিতিশীল করে তোলে। এসব নোংরা ঘটনার সমাধান হওয়া জরুরি।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো: সোহাগ বলেন, এটি দীর্ঘ দিনের একটি বিরোধ। এর আগেও উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ড লেগেছিলো এবং ইউনিয়নে তাঁদের নিয়ে বসাও হয়েছিলো। কিন্তু আমি বিষয়টি তদন্ত করার আগে এবং সমাধান দেওয়ার আগেই রশিদুলরা কোর্টের আশ্রয় নেয়। তারপরে আর আমার গ্রাম্য আদালতে এটা নিয়ে বসার আমি কোন ক্ষমতা রাখিনা। যেহেতু মহান্য কোর্টের দ্বারস্ত হয়েছে তারা।

কিন্তু জমি নিয়ে সংঘর্ষ অবশ্যয ইতিবাচক নয়। এটি একটি জঘন্যতম কাজ। সামান্য জমি নিয়ে অনেক বড় দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমি আহŸান করবো আমার ইউনিয়নে কেউ যেনো এসব ঝামেলায় আর না জড়ায়। কারন সংঘর্ষ কখনো সমাধান হতে পারেনা। সংঘর্ষের ঘটনায় আমাকে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। আমাকে লিখিত অভিযোগ দিলে আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি(অপারেশন) বলেন, জিয়াউর রহমান বলেন, জমি নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় সাদেক ইসলাম বাদী হয়ে একটি এজাহার দিয়েছেন। এজাহার ভূক্ত দুজন আসামীকে আটক করা হয়েছে। বাকীদের আটক করার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরপক্ষ কোন অভিযোগ দিয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত একটি এজাহার দেখছি।


সম্পাদক

মোঃ আবুল হাসান মোবাইল নাম্বার 01860003666

বার্তাকক্ষ

মোবাইল নাম্বার 09638870180