ভাষা শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে মানুষের ঢল

প্রকাশিত: ১:৩৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১

ডেস্ক বাঙালির ভাষা বীরদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নেমেছে।

মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য আত্মত্যাগকারীদের প্রতি ভালোবাসার কমতি ছিল না সাধারণ জনগণের। লাল-সাদা-হলুদ-বেগুনি কত বাহারি রঙের থোকা থোকা ফুলের স্তবকে ছেয়ে গেছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।

মহান ‘শহীদ দিবস’ ও ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ এর প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হাজারও মানুষের ঢল নামে। সারাদেশের শহীদ মিনারগুলোতে রোববার ভোরেও এ দৃশ্য দেখা গেছে।

রোববার রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাদের প্রতিনিধিদল, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থার ব্যক্তিবর্গ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে সাধারণ মানুষের জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ খুলে দেয়া হয়।

এরপর সর্বস্তরের জনতা শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফিরে যাচ্ছেন আপন গন্তব্যে। সকালে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রভাতফেরীও হয়েছে।

করোনার কারণে সারাদেশে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শহীদ মিনারগুলোতে দলে দলে ফুল নিয়ে হাজির হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন ভাষার জন্য জীবনদানকারী বীরদের।

করোনা পরিস্থিতিতে এবার অন্যান্য বছরের তুলনায় একুশের প্রথম প্রহরে মানুষের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। এছাড়া সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এবার শহীদ মিনারের মূল বেদিতে একসঙ্গে পাঁচজন শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন- এমন নিয়মে রাতে ভিড় কম হয়।

তবে সকালে সূর্য উদয় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছুটে আসতে থাকেন সর্বস্তরের লোকজন। অগণিত মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ হলের অদূরে পলাশীর মোড়ে জড়ো হন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তল্লাশি শেষে তারা সারিবদ্ধভাবে ভেতরে প্রবেশ করেন।

এ সময় ‘২১ মানে অহংকার’, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানসহ নানা ধরনের স্লোগানে মুখরিত হতে থাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকা।

যুবক, যুবতী, শিশু-কিশোর, শিক্ষক, ছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হাতে ফুল, ফুলের তোড়া ও সমবেতভাবে ফুলের মালা নিয়ে সামাজিক দূরত্ব মেনে পায়ে হেঁটে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসছেন।

সরকারি বিভিন্ন দফতর থেকে শুরু করে রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থার নেতাসহ সর্বস্তরের মানুষ ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।

এ সময় ইডেন কলেজের ছাত্রী রেখা আক্তার বলেন, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ভাষার অধিকার পেয়েছিল বাঙালি, সেসব শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনারে এসেছি।

ঢাকা কলেজের ছাত্রলীগ নেতা কাউসার বলেন, আজ ভাষা শহিদদের জন্যই আমরা মায়ের ভাষায় কথা বলতে পারি। করোনার মধ্যে সব ধরনের বিধি-নিষেধ মেনে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি।

মাতৃভাষা রক্ষার দাবিতে ১৯৫২ সালের এদিনে শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিলেন রফিক, সালাম, বরকত, সফিউর, জব্বারসহ অনেক বাংলা মায়ের দামাল ছেলে। তাদের রক্তের দামেই এসেছিল মাতৃভাষা বাংলা। আর এর সিঁড়ি বেয়েই দীর্ঘ নয় মাস মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে উদিত হয় স্বাধীনতার সূর্য।


সম্পাদক

নির্বাহী সম্পাদকঃ মাসুদ রানা পলক প্রকাশক মোঃ আবুল হাসান মোবাইল নাম্বার 01860003666

বার্তাকক্ষ

মোবাইল নাম্বার 09638870180