চিলাহাটি সীমান্ত ছুঁয়ে গেল ভারতীয় রেলইঞ্জিন

প্রকাশিত: ১০:১১ অপরাহ্ণ, মার্চ ১২, ২০২১

ডেস্ক নীলফামারীর চিলাহাটি সীমান্ত ছুঁয়ে ফিরে গেল ভারতীয় একটি রেল ইঞ্জিন। ২৬ মার্চ জেলার চিলাহাটি হয়ে ভারতের এনজিপি-ঢাকা সরাসরি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ওই মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। তবে ইঞ্জিনটির চিলাহাটি স্টেশন পৌঁছার কথা থাকলেও সীমান্ত অতিক্রমে কাগজপত্রের ত্রুটি থাকায় তা পারেনি।

ভারতের এনজিপি থেকে ছেড়ে দুপুর ১২টার দিকে ইঞ্জিনটি পৌঁছে ভারত হলদিবাড়ী সীমান্তের শুণ্য রেখায়। সেখানে প্রয়োজনীয় কাজ শেষে নীলফামারীর চিলাহাটি রেলস্টেশন পর্যন্ত আসার কথা ছিল। এজন্য প্রস্তত ছিলেন চিলাহাটি স্টেশন মাস্টার। কিন্ত সীমান্তে ওই ইঞ্জিনের চালক ও গার্ডসহ প্রতিনিধি দলের সাত সদস্য কাস্টম ও ইমিগ্রেশন ছাড়পত্র না থাকায় সীমান্ত অতিক্রম করতে দেয়নি সে দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। ফলে সীমান্ত ছুঁয়ে দুপুর ১টা ৩১ মিনিটে এনজিপির উদ্দেশ্যে ফিরে যায় ইঞ্জিনটি।

চিলাহাটি স্টেশনের সহকারী মাস্টার মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন,‘ আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে এ পথে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের প্রস্তুতির মহড়ায় ভারতের ওই ইঞ্জিনটি বৃহস্পতিবার দুপুরে চিলাহাটি স্টেশনে পৌঁছার কথা ছিল। কিন্তু সীমান্ত ছুঁয়ে ইঞ্জিনটি ফিরে যায় এনজিপির উদ্দেশ্যে।’

তিনি ভারতের হলদিবাড়ি স্টেশন মাস্টার সত্যজিৎ তিওয়ারির বরাদ দিয়ে বলেন, ‘ওই মহড়ায় সাতজন প্রতিনিধি ছিলেন। কাস্টম ও ইমিগ্রেশন ছাড়পত্র না থাকাসহ অন্যান্য কাগজপত্রের ক্রুটিতে সীমান্ত অতিক্রম করে ইঞ্জিনটি বাংলাদেশের চিলাহাটি রেলস্টেশনে আসতে পারেননি। এর আগেও গত ৫ মার্চ এমন ঘটনা ঘটেছিল। ফলে ওই দিনেও ভারতীয় ইঞ্জিন বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি।’

রেলওয়ে সূত্রমতে, ব্রিটিশ আমল থেকে চিলাহাটি-হলদিবাড়ী রেলপথ যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দার্জিলিং থেকে খুলনা হয়ে কলকাতা পর্যন্ত এ পথে নিয়মিত একাধিক যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করত। ১৯৬৫ সালে ভারত ও পাকিস্থানের মধ্যে যুদ্ধের পর তা বন্ধ হয়।

দুই দেশের প্রধান মন্ত্রীর উদ্যোগে পথটি পুণরায় চালু করতে রেলপথ নির্মান পরবর্তী গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন হয়। সেদিন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই রেল চলাচলের উদ্বোধন করেন। আগামী ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে এ পথে ভারতের শিলিগুড়ি থেকে বাংলাদেশের ঢাকা পর্যন্ত যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করবেন উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রী। এতে দীর্ঘ ৫৫ বছর পথটি দিয়ে রেলে সরাসরি দুই দেশের মধ্যে যাত্রী চলাচল শুরু হবে। এজন্য ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি সম্ভাব্য ভাড়া হবে ২২০০ টাকা। আর চিলাহাটি থেকে শিলিগুড়ি ভাড়া ৭০০ টাকা।

জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা আশা করছি এ পথে আগামী স্বাধীনতা দিবসে যাত্রীবাহী ট্রেন চলবে। তারই ধারাবাহিকতায় ভারত তাদের সীমান্ত এলাকা পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ট্রেন চালিয়েছে।’

চিলাহাটি রেলপথ নির্মাণের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুর রহীম জানান, চলতি বছরের ২৬ মার্চ এই পথে বাংলাদেশ ভারত যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হবে। ১৯৬৫ সালের পর বন্ধ থাকা পথটি চালু করতে ৮০ কোটি ১৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প হাতে নেয় বর্তমান সরকার। প্রকল্পটির মধ্যে ছিল চিলাহাটি রেলস্টেশন থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ ও দুই দশমিক ৩৬ কিলোমিটার লুপলাইন নির্মাণসহ অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ কাজ। ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর চিলাহাটি রেল স্টেশন চত্বরে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন।


সম্পাদক

নির্বাহী সম্পাদকঃ মাসুদ রানা পলক প্রকাশক মোঃ আবুল হাসান মোবাইল নাম্বার 01860003666

বার্তাকক্ষ

মোবাইল নাম্বার 09638870180