পঞ্চগড়ে মাদ্রাসাছাত্রকে বেধড়ক মারধর

প্রকাশিত: ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০২১

ডেস্ক পঞ্চগড়ে নাজমুল হক (১০) নামে এক ছাত্রকে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ উঠেছে হাফেজ মো. রিপন (২১) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষকের বিরুদ্ধে।

শনিবার (২০ মার্চ) রাতে এ ঘটনায় পঞ্চগড় সদর থানায় এজাহার দায়ের করে ওই ছাত্রের বাবা। আহত মাদ্রাসাছাত্র নাজমুল হক পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের ভিতরগড় বড়কামাত গ্রামের জামাল উদ্দীনের ছেলে।

সে পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের মডেল বাজার ফোরকানিয়া নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের ছাত্র। অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ মো. রিপন জামাদারপাড়া গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ছাত্র নাজমুল হককে মডেল বাজার ফোরকানিয়া নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিং-এ ৩ মাস আগে ভর্তি করে দেয়া হয়। সেখানে সে ওই মাদ্রাসার মেসে থাকত। ১৫-২০ দিন আগে একই মাদ্রাসার এক বন্ধু ছাত্র নাজমুলের সঙ্গে মারামারি ও দুষ্টামি করে।

বিষয়টি দেখার জন্য এবং আর মারামারি যেন না করে নাজমুলের বাবা জামাল উদ্দীন মাদ্রাসার হুজুর শিক্ষক হাফেজ মো. রিপনকে অবহিত করে। হুজুর রিপনকে বিচার দেয়ার কারণে গত ১৪ মার্চ রাতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাত্র নাজমুলকে শ্রেণিকক্ষে আটক করে বাঁশের বেত দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে এবং বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখায়।

পরে শিশুটির বাবা-মা শিশুটিকে মাদ্রাসায় দেখতে গেলে শিশু ছাত্র নাজমুল আর মাদ্রাসায় থাকবে না বলে কান্নাকাটি করে। বিষয়টি জানা চেষ্টা করলে ছাত্র নাজমুল আঘাতের চিহ্নগুলো বাবা-মাকে দেখায়। পরে নাজমুলকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এরপরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শনিবার (২০ মার্চ) পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়।

এদিকে খবর পেয়ে শিশুটি দেখতে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে ছুটে আসেন পঞ্চগড় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী।

মাদ্রাসাছাত্র নাজমুলের বাবা জামাল উদ্দীন জানান, আমার ছেলেকে শিক্ষক হাফেজ মো. রিপন কোনও কারণ ছাড়া বেধড়ক মারধর করে মাদ্রাসায় ৬ দিন ধরে আটক করে রাখে। আহত হলেও তাকে চিকিৎসা দেয়নি। পরে ছেলে কোনও মতে আমার সঙ্গে দেখা করে সব বললে আমি তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। আমার ছেলেকে এমনভাবে বেধড়ক মারধর করায় আমি তার বিচার চাই।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু আক্কাছ আহম্মদ সময় সংবাদকে জানান, এ ঘটনায় ওই শিশুর বাবা রাতে থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্তকে ধরতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


সম্পাদক

নির্বাহী সম্পাদকঃ মাসুদ রানা পলক প্রকাশক মোঃ আবুল হাসান মোবাইল নাম্বার 01860003666

বার্তাকক্ষ

মোবাইল নাম্বার 09638870180