তাহিরপুরে পাঠনাই নদীতে অবৈধভাবে বালি উত্তোলন বন্ধের দাবীতে মানববন্ধন

sagar sagar

Hasan

প্রকাশিত: ১:২৯ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০২১

আমির হোসেন,তাহিরপুর প্রতিনিধিঃঃ
সুনামগঞ্জ তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ও উত্তর বড়দল ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পাঠনাই মরানদীর সুন্দরপাহাড়ি-গুটিলা গ্রাম এলাকায় কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ ও এর পাশর্^বর্তী এলাকার কৃষিজমি রক্ষার্থে স্থানীয় এলাকাবসীর আয়োজনে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে ভুক্তভোগী দুই গ্রামের বাসিন্দারা।
শনিবার দুপুরে ক্ষতিগ্রস্থ প্রায় ৮/১০ টি গ্রামের শতশত নারী-পুরুষের অংশ গ্রহনে গুটিলা-সুন্দর পাহাড়ি গ্রামের মধ্যবতী পাঠনাই মরানদীতে প্রায় ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধ করমসূচী পালন করেছে। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, গুটিলা গ্রামের মালেক মিয়া, জহুর মিয়া, বারেক উদ্দিন, শাহাব উদ্দিন, মেহারুন নেছা, সেতারা বেগম, রতনমালা, সুন্দরপাহাড়ি গ্রামের কাছু মিয়া, মস্তাক মিয়া, মানিগাঁও গ্রামের মনসুর আলী, হুমায়ুন ও শিমুলতলা গ্রামের শাহরুল মিয়া প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, তাহিরপুরের জাদুকাটা নদীসহ সকল নদী থেকে সরকারের পক্ষ থেকে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও স্থানীয় পুলিশ প্রসাশনকে ম্যানেজ করে উপজেলার ৫নং বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়নের সুন্দরপাহাড়ি গ্রামের মৃত ছমেদ আলীর ছেলে শামছুদ্দিন ওরফে সামছুদ্দিন মেম্বার (৬০) এর নেতৃতে একই গ্রামের মৃত তমিজ আলীর ছেলে আব্দুল হাই (৬০), হেলিম মিয়া (৪৫), মৃত সফর আলী মড়লের ছেলে আব্দুল হামিদ (৭০)সহ ১০/১৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ বালুখেকো চক্র সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গত কয়েক বছর যাবৎ সুন্দরপাহাড়ি ও গুটিলা গ্রাম সংলগ্ন পাঠনাই মরানদীর সরকারি খাস ভুমি ও ফসলী জমি কেটে দিনে-দুপুরে ও রাতের আঁধারে অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন ও পিকাপ ভ্যান গাড়ি দিয়ে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে।
এতে করে দুই গ্রাম ও আশপাশের বাড়ি-ঘরসহ ফসলী জমি রয়েছে হুমকির মুখে। ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামের মানুষ তাদের বালু উত্তোলনে বাঁধা দিতে গেলে ওই বালুখেকো চক্রটি গ্রামের নিরীহ মানুষের উপর হামলা চালানোসহ মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানীর হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।
দুই গ্রামের মানুষ বালু-পাথর খেকো চক্রের হাত থেকে তাদের বাড়ি-ঘর ও কৃষিজমি রক্ষার্থে ক্ষতিগ্রস্থ গস্খামবাসীর পক্ষে আব্দুল মালেক নামের এক কৃষক বাদী হয়ে গত ১০/০৩/২০২১ ইং তারিখে তাহিরপুর থানায় একটি জিডি করেন, তাহিরপুর থানার জিডি নং-৩৮৭।
পরে জিডি মূলে ১১/০৩/২০২১ ই তারিখে তাহিরপুর থানার নন এফ.আই.আর নং-২৬, ধারা ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১০৭/১১৭ (৩) মামলা বিজ্ঞ আদালতে চলমান রয়েছে।
মামলা দেয়ার পরও বালু-পাথর খেকো চক্রের বালু-পাথর উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধ না হওয়ায় গ্রামবাসী গত ২১/০৩/২১ ইং তারিখে আবারো সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক, সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার বরাবর পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দায়ে করে।
অভিযোগ দায়েরের পরে বালুখেকো চক্রটি মালেকের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মালেকসহ গস্খামবাসীর বাড়ি ঘরে ভাঙচুর ও হামলা করে। বাড়ি ঘরে হামলার ঘটনার পর মালেক বাদী হয়ে তাদের জান মালের নিরাপত্তা চেয়ে তাহিরপুর থানায় আরো এশটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবুও থেমে নেই বালু পাথর উত্তোলন ও বিক্রি। হামলার ঘটনার খবর পেয়ে বাদাঘাট পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই রাজিবুল ইসলাম ঘটনার স্থাল পরিদর্শন করেন।
এ অবস্থায় স্থানীয় বেশ কয়েটি গ্রামের নিরীহ লোকজন পাঠনাই মরানদী ও নদীর মধ্যবর্তী কৃষিজমি থেকে বালু-পাথর খেকো চক্রের ধারা অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধ করে তাদের কৃষিজমি রক্ষার্থে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


সম্পাদক

নির্বাহী সম্পাদকঃ মাসুদ রানা পলক প্রকাশক মোঃ আবুল হাসান মোবাইল নাম্বার 01860003666

বার্তাকক্ষ

মোবাইল নাম্বার 09638870180