যশোরের পা পঁচা বৃদ্ধা পাগলী উন্নত চিকিৎসার জন্য এখন ঢাকায়

প্রকাশিত: ৪:৫৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৪, ২০২১

মিলন কবির,যশোর প্রতিনিধিঃ যশোরের শার্শার উপজেলার জামতলা বাজারে ভবঘুরে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ৬৫ বছরের বৃদ্ধা মায়ের কথা বলছি ।দূর্ঘটনায় তার বাম পায়ে ক্ষতের কারনে পঁচনের সৃষ্টি হয়।পায়ে ক্ষত নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন তিনি।প্রচন্ড পঁচা দূরগন্ধের কারনে তার নিকটে কোন মানুষ আসতে পারতো না।কিন্তু এলাকার কিছু মানুষ মানবিক বোধের কারনে এগিয়ে এসে তাকে খাবার দাবার দিলেও তিনি খেতেন না ।কারন তারতো মরার পরে খাঁড়ার আঘাত। পায়ের ক্ষত স্থানে পোকায় যেন কিলবিল করছে। সেই সাথে মাছি তো আছেই।

বৃদ্ধা মহিলা পায়ে প্রচন্ড যন্ত্রনা নিয়ে বসে থাকতো জামতলা বাজারের বিভিন্ন দোকানের সামনে।দুরগন্ধের তাড়নায় তাকে অনেকেই দুর দুর করে তাড়িয়ে দিতেন ।কিন্তু তার এই কষ্টের জীবন দেখে স্থানীয় কিছু লোকের মনে মায়া জন্মালো।মহিলাটির অবস্থা দেখে মানবিক দৃষ্টিতে এগিয়ে আসলেন বাগআঁচড়া সাতমাইলের লন্ডন প্রবাসী মনিরুজ্জামান। জামতলা সামটা গ্রামের আনোয়ার হোসেন বিদ্যুৎ,ফরহাদ হোসেন,ছাত্তার ,আাশরাফুল,আলমগীর কবির,শামীম,সাংবাদিক মিলন কবির,সকিনা খাতুনসহ স্থানীয় অনেকেই।
গত ২৫ শে মার্চে মনিরুজ্জামান বৃদ্ধা মহিলাটির ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে দিলে।বিষয়টি মানুষের নজরে আসতে শুরু করে। মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধা মহিলার খবর জানতে পেরে মানবিক টানে ঢাকা থেকে ছুটে আসেন ঢাকা যমুনা ব্যাংকের এফএভিপি শামীম হোসেন।

শামীম হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন ,মনিরুজ্জামান ভাইয়ের ফেইসবুকে সংবাদটি দেখে তার দৃষ্টিগচর হয়।তার পরে যোগাযোগ করে বৃদ্ধা মহিলার সু চিকিৎসার জন্য সাহার্যের হাত বাড়িয়ে দেন তিনি।২০১৫ সাল থেকে মানসিক ভারসাম্যহীনদের নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি।

বৃদ্ধা মহিলার মাথার জটা চুল কেটে গোসল দিয়ে নতুন পোশাক পরিয়ে পায়ে ব্যান্ডেজ করার পর এখন আর চেনার উপায় নেই যে তিনি একজন পাগলী।কিছুক্ষন আগের চেহারা এবং কিছক্ষন পরের চেহারা।এজন্যই প্রবাদে বলে মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য, একটুকি সহানোভূতি কি মানুষ পেতে পারে না।

এরই মধ্যে শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মীর আলিফ রেজার অনুমতি ক্রমেই ও ৮নং বাগআঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইলিয়াস কবির বকুলের সহায়তায় প্রাথমিক কাজ গুলো সম্পন্ন হয়।জামতলা এলাকার মানুষের মানবিক সহযোগিতায় ও বাগআঁচড়ার মনিরুজ্জামানের প্রচেষ্টায় তাকে সু চিকিৎসার জন্য শনিবার(৪ এপ্রিল) দুপুরে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর এ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।তিনি বর্তমানে ঢাকা সরোয়াদী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এভাবে মানবিক দৃষ্টি দিয়ে যদি মানুষ মানুষের পাশে এসে দাঁড়ায় তাহলে নাম পরিচয় না জানা এমন ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের মত আর কোন কাউকে অনাহারে বিনা চিকিৎসায় মরতে হত না। এমটায় প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসি।


সম্পাদক

নির্বাহী সম্পাদকঃ মাসুদ রানা পলক প্রকাশক মোঃ আবুল হাসান মোবাইল নাম্বার 01860003666

বার্তাকক্ষ

মোবাইল নাম্বার 09638870180