ঢিলেঢালাভাবে চলছে লকডাউন

প্রকাশিত: ১:০৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৫, ২০২১
ফাইল

ডেস্ক ভোর ৬টা থেকে দেশে শুরু হয়েছে দ্বিতীয় দফায় লক ডাউন। কিন্তু শুরুর দিনে লক ডাউন মানার ক্ষেত্রে ঢিলেঢালা ভাব দেখা গেছে। সকালে রাস্তার মোড়গুলোতে ছিল অফিসগামী মানুষের ভিড়। পরিবহণ ব্যবস্থা না করে অফিস খোলা রাখায় বেড়েছে ভোগান্তি। তবে বাস না চললেও রাস্তায় ব্যাপক পরিমাণে সিএনজি, অটোরিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে।

এখন থেকে প্রায় ১৩ মাস আগে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছিল। তখন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুতই সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। গত বছরের ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সেই ছুটি ৬৬ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়েছিল। এক বছর পর সংক্রমণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আবারও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে হলো সরকারকে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে দেশজুড়ে আজ সোমবার সকাল ছয়টা থেকে এক সপ্তাহের জন্য শুরু হয় লকডাউন।

সকাল আটটায় রাজধানীর ইসিবি চত্বরে দেখা যায়, অফিসগামী মানুষের ভিড়। কিন্তু রাস্তায় বাস না থাকায় তারা বিকল্প উপায়ে অফিসে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সিএনজি চালকরা এই সুযোগে ভাড়া বাড়িয়েছেন দ্বিগুণ, তিনগুণ। অফিসগামী অনেকেরই অভিযোগ, সীমিত পর্যায়ে খোলা রাখা যাবে এমন সরকারি আদেশের সুযোগ নিয়ে অনেক বেসরকারি অফিস পুরোদমে খোলা। কিন্তু সেই অফিসগুলো নিজস্ব পরিবহণ ব্যবস্থা করেনি। ফলে চাকরি বাঁচানোর স্বার্থে কর্মীরা বাড়তি টাকা দিয়ে সিএনজি বা অটোরিকশায় আবার কেউ কেউ পায়ে হেঁটেই অফিসে যাচ্ছেন।

তবে দূরপাল্লার কোনো যানবাহন ঢাকা ছেড়ে যায়নি। বাস যেমন বন্ধ রয়েছে তেমনি রেল। নৌ পরিবহণও বন্ধ রয়েছে। কিন্তু প্রাইভেট কারের, সিএনজির, অটোরিকশার আধিক্যের কারণে রাজধানীর কিছু কিছু মোড়ে ট্রাফিক জ্যামও হচ্ছে সকাল থেকে। বড় রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ থাকলেও খোলা রয়েছে রাস্তার মোড়ে মোড়ে, অলিগলিতে ছোটোখাটো রেস্তোরাঁ, চায়ের দোকান। সেখানে মানুষ ভিড়ও করছে। যাদের অনেককেই দেখা গেছে মাস্ক ছাড়া।

এর আগে এক সপ্তাহের ‘লক ডাউন’ ঘোষণা করে রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এই প্রজ্ঞাপনে লক ডাউন শব্দের উল্লেখ না থাকলেও ১১টি শক্ত আদেশ দেয়া হয়েছে। যার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে- ‘করোনাভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯-এর বিস্তার রোধকল্পে শর্তসাপেক্ষে সার্বিক কার্যাবলি/চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ’। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। ৫ এপ্রিল সোমবার ভোর ৬টা থেকে ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের দুই নং ধারায় আদেশগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। ২(ক)-তে বলা হয়েছে, সকল গণপরিবহণ (বাস, ট্রেন, বিমান, নৌ) বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি সেবাদান, পণ্য পরিবহণ এবং উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে জড়িত পরিবহণ এর আওতামুক্ত থাকবে। ২(খ)-কে উল্লেখ করা হয়েছে, আইন-শৃঙ্খলাসহ জরুরি পরিষেবা দানকারী অফিসসমূহ খোলা থাকবে।

এর পরের ধারায় [(২(গ)] আদেশ দেয়া হয়েছে, সকল সরকারি, বেসরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত অফিস, আদালত কেবল জরুরি কাজ সম্পাদনের জন্য খোলা থাকবে সীমিত পরিসরে। কর্মীদের আনা-নেয়া করতে হবে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়। বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ তাদের শ্রমিকদের জন্য কারখানার নিকটবর্তী সুবিধাজনকস্থানে হাসপাতাল নির্মাণ করবে।

২(ঘ)-তে বলা জানানো হয়েছে, সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ওষুধ বা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা, মৃতদেহ দাফন-সৎকার ছাড়া বের হওয়া যাবে না। খাবার-হোটেল রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কেনা যাবে বাসায় নেয়ার জন্য। অনলাইনেও অর্ডার করা যাবে। তবে কোনোভাবেই হোটেল-রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়া যাবে না মর্মে আদেশ দেয়া হয়েছে ২(ঙ) ধারাতে।

২(চ)-তে বলা হয়েছে, শপিংমল, দোকানপাট বন্ধ থাকবে তবে অনলাইনে বেচাকেনা করা যাবে। কোনো ক্রেতা স্বশরীরে শপিংমলে যেতে পারবে না। ২(ছ)-তে উল্লেখ করা হয়েছে, কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উন্মুক্তস্থানে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বিক্রি হবে। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। ব্যাংকিং বিষয়ে আদেশ দেয়া হয়েছে ২(জ) ধারায়। বলা হয়েছে, সীমিত পর্যায়ে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালানোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিবে।

২(ঝ)-তে উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকার সুবিধাজনক স্থানে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ফিল্ড হাসপাতাল নির্মাণ করবে। পরবর্তী দুই ধারায় [২(ঞ) এবং ২(ট)] বলা হয়েছে, সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী টহল জোরদার করবে। আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ‌


সম্পাদক

নির্বাহী সম্পাদকঃ মাসুদ রানা পলক প্রকাশক মোঃ আবুল হাসান মোবাইল নাম্বার 01860003666

বার্তাকক্ষ

মোবাইল নাম্বার 09638870180