লকডাউনেও উলিপুরে কিস্তি আদায়; এনজিও’র চাপে বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ

প্রকাশিত: ৩:১০ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৯, ২০২১

ডেস্ক করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে গত ৫ এপ্রিল থেকে ১১ এপ্রিল রাত ১২ পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। কুড়িগ্রামের উলিপুরবাসী এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও ঋণের কিস্তি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। আয়-উপার্জন, ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন তারা। তার উপর বিভিন্ন এনজিও থেকে যারা ঋণ নিয়েছেন তারাও রয়েছেন ভীতিকর অবস্থায়।

লকডাউন থাকা সত্ত্বেও উলিপুর পৌরসভায় সেই নির্দেশনা অমান্য করে রাতে কিস্তি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি আশা এনজিও’র কেন্দ্র ব্যবস্থাপক ও ঋণ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও রাতে কিস্তির টাকা তোলার জন্য সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে।

ঠিক লকডাউনের ৪র্থ দিন বৃহস্পতিবার রাত ৯ টায় কুড়িগ্রামের উলিপুরের নারিকেলবাড়ি খেয়ার পাড় এলাকায় আশা এনজিওর উলিপুর ৩ ব্রাঞ্চের মৌচাক দলের হাসিনা, হাফেজা, রহিমা, জাহানূর ও নাসিমা কিস্তি পরিশোধের হাত থেকে রেহাই পায়নি।
পৌরসভার নারিকেল বাড়ি খেয়ারপাড় এলাকার হাসিনা খাতুনের স্বামী হাফিজুর বলেন, সামান্য ব্যাটারিচালিত অটো রিকশা চালেয়া আয় ওজগার করি। লকডাউনে যাত্রী না থাকায় এ্যাকেবারে ওজগার বন্ধ। আটোরিকশা কিনতে মোর বউয়ের নামে আশা এনজিও থ্যাকি প্রায় ৫৬ হাজার টেকা ইণ নিচলং। সপ্তাহে ১ হাজার ৪’শ টেকার কিস্তি দেওয়া নাগে। সমস্যার কথা জানাইলেও আইতত বাড়িত আসিয়া অফিসারেরা কিস্তির টেকার জন্য চাপ দিবার নাগছে। চাপত পড়িয়া ৮’শ টেকা কিস্তি দিলোং আরো বাকি অইলো ৬’শ টেকা তোমরা তো নিজে চোখে দেখলেন। তোমাক দেখি বইতো টেকা না তুলিয়া চলি গ্যালো।

একই এলাকার ওই আশা’র সদস্য জাহানূর বেগমের স্বামী নজির হোসেন বলেন, ব্যবসার জন্য আশা থেকে ঋণ নিয়ে ছিলাম। কিন্ত লকডাউনের কারণে আমার আয় কম হওয়ায় টাকা পয়সার অভাবে পড়েছি। এমন অবস্থায় আশার মাঠ কর্মীরা রাতে ঋণের কিস্তির টাকার চাপ প্রয়োগ করছে।বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে এসে তারা টাকা ছাড়া উঠে না।

এদিকে ওই আশা’র সদস্য হাফেজা বেগমের স্বামী বলেন, চাউলের বস্তা শ্যাষ চাউল কেনার টেকা নাই চাপত পড়ি কিস্তি পরিশোধ করনো।
আরো এক সদস্য নাসিমার শ্বাশুরি সালেহা বেগম বলেন, মোর ছাওয়াটা অটোরিক্সা চালেয়া আইজ মাত্র ৮০ টেকা কামাই করছে কিস্তির চাপত পড়িয়া সঞ্চয়ের টেকা ভাঙ্গেয়া কিস্তি দিলে।

জানতে চাওয়া হলে শাখা ব্যবস্থাপক রেজাউল ও ঋণ কর্মকর্তা রুহুল আমিন সাংবাদিকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তাদের ভাষ্য, লকডাউনে কিস্তির টাকা তোলার কোনো বিধি-নিষেধ নাই। তাই রাতে কিস্তি নিতে এসেছি।
এ ব্যাপারে আশা এনজিওর উলিপুর ব্রাঞ্চের শাখা ব্যবস্থাপক ইব্রাহিম মুঠোফোনে জানান, আমি ওনাদের রাতে সদস্যদের বাসায় যেতে বলিনি। তবে কারা অনিয়ম করেছে আমি বিষয়টি দেখছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন,বিষয়টি অত্যান্ত দুঃখজনক কিস্তি পরিশোধের ব্যাপারে প্রতিটি এনজিওর সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সম্পাদক

নির্বাহী সম্পাদকঃ মাসুদ রানা পলক প্রকাশক মোঃ আবুল হাসান মোবাইল নাম্বার 01860003666

বার্তাকক্ষ

মোবাইল নাম্বার 09638870180