ঢাকা, ৮ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ট্রেন দুর্ঘটনার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

MD.Abul

Hasan

প্রকাশিত: ১:০২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১০, ২০২১

ডেস্ক নির্দিষ্ট কোনো সিগন্যাল নেই ট্রেনের। পাঁচ মিশালি সিগন্যাল মেনে ট্রেন চালান চালকরা। তারা বলছেন, মিশ্র সংকেতের কারণে দুর্ঘটনা যেমন বাড়ছে তেমনি কমছে ট্রেনের গতি। সারাদেশের রেললাইনকে এক সিগন্যাল ব্যবস্থাপনায় রূপান্তর করে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।

২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মন্দবাগ রেলস্টেশনে দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে নিহত হন ১৭ যাত্রী। আহত হন শতাধিক। রক্তক্ষয়ী এই দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চালকের সিগন্যাল অমান্যকে দায়ী করে রেলওয়ে। মাঝেমধ্যেই ঘটছে এমন দুর্ঘটনা।

দুর্ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধানে নামে রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। এই কমিটির তদন্তে বের হয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। যেখানে দায়ী করা হয়েছে সিগন্যাল ব্যবস্থাপনাকেই।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে পাঁচ ধরনের সিগন্যাল রয়েছে। কম্পিউটার বেজড কালার লাইট ইন্টার লক, নন-ইন্টার লক, সিমাফোর, সোলার ও বৈদ্যুতিক লাইট। আর চালকরাও বলছেন, পাঁচ মিশালি সিগন্যালের কারণে সমস্যায় পড়তে হয় তাদের।

এসব সিগন্যালের কোনোটা চলছে কম্পিউটারে, কোনোটা হাতে ঘুরিয়ে। সব সংকেতও ভিন্ন ভিন্ন। এক সিগন্যালে চলন্ত ট্রেন হঠাৎ করে অন্য সিগন্যাল পেলে তা পালন করা দুষ্কর জানিয়ে চালকরা বলছেন, অনেক সময় অনুমানের ওপর ভিত্তি করেই চালাতে হয় ট্রেন।

সারাদেশের রেললাইনকে এক পদ্ধতির সিগন্যাল ব্যবস্থাপনায় না আনলে দুর্ঘটনা বাড়বে জানিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের তাগিদ যোগাযোগ বিশেষজ্ঞের।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, ম্যানুয়ালি থাকার এখন সুযোগ নেই। অপারেশনটা হতে হবে ডিজিটাল।

অবশ্য রেলওয়ের দাবি, সব স্টেশনের সিগন্যাল ব্যবস্থা অধুনিকীকরণের কাজ শুরু হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী (টেলিযোগাযোগ ও সংকেত) বেনু রঞ্জন সরকার বলেন, নতুন যে রেললাইনগুলো হচ্ছে সেগুলোতে প্রথম থেকেই আধুনিক রেললাইন সিগন্যাল ব্যবস্থা থাকবে।

দেশে দুই হাজার ৯২৮ কিলোমিটার রেলপথে স্টেশন রয়েছে ৪৮৩টি। এর মধ্যে ৩৫৩টি স্টেশনে সিগনাল রয়েছে।

স/নি

  • এই বিভাগের সর্বশেষ

    Translate »
    error: Content is protected !!