জাকাত যাদেরকে দেবেন

ওয়েব ওয়েব

ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪:৫৭ অপরাহ্ণ, মে ১, ২০২১

জাকাত ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ। এ বিধান পালনে প্রয়োজন সঠিক পথ ও পন্থা। বণ্টন সঠিকভাবে না করলে জাকাত আদায় হবে না। জাকাত শব্দটি পবিত্র কোরআনে আছে ৩২ বার, নামাজের সঙ্গে কোরআন মজিদে আছে ২৬ বার; স্বতন্ত্রভাবে কোরআনে আছে চারবার; পবিত্রতা অর্থে দু’বার।

মহান আল্লাহ্ পবিত্র কোরআনে বলেন, জাকাত কেবল ফকির মিসকিন ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা উদ্দেশ্য তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণে জর্জরিত ব্যক্তিদের জন্য, আল্লাহর পথে সংগ্রামকারী এবং মুসাফিরদের জন্য। এটা আল্লাহর নির্ধারিত বিধান এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়। (তওবা-৬০)

যাদেরকে জাকাত দিতে বলা হয়েছে-

* ফকির: যে ব্যক্তি মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভিক্ষা চায়, যারা সর্বদা অভাব অনটনে জীবন কাটায়, নিজ জীবিকার জন্য অন্যের মুখাপেক্ষী এরাই ফকির।

* মিসকিন: একজন দরিদ্র ভদ্রলোককে বুঝায়, যার বাহ্যিক অবস্থা দেখেও অভাবগ্রস্থ মনে হয় না। তিনি স্বীয় আত্মসম্মান বোধের জন্য অপরের নিকট সাহায্য চাইতে পারে না, অথচ কঠোর পরিশ্রমের পরও সংসারের অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে না। সমাজে তথা নিজ আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে এরকম কেউ থাকলে তারাই হকদার বেশি।

* জাকাত আদায়কারী কর্মচারী: সরকারীভাবে নিযুক্ত জাকাত আদায় ও বিতরণের কর্মচারী। বর্তমানে এই খাত বাংলাদেশে প্রযোজ্য নয়।

* মন জয় করার জন্য নও-মুসলিম: যাদের অন্তর ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট, তবে সামাজিক বা আর্থিক ভয়ে ইসলাম ধর্মে আসছে না তাদের সাহায্য করে প্রকাশ্যে দলভুক্তি করা। এছাড়া যারা অন্য ধর্ম ছেড়ে মুসলিম হওয়ার কারণে পারিবারিক সামাজিক ও আর্থিকভাবে বঞ্চিত হয়েছে তাদের সাহায্য করে ইসলামে সুদৃঢ় করা। যেমন সফওয়া ইবনু উমাইয়াকে হুনাইন যুদ্ধের গণিমাত দিয়েছিলেন। রাসুল (সা.) আবু সুফিয়ান ইবনু হারবকে, আক্বা ইবনু হাবেসক এবং উয়াইনাহ ইবনু মিহসানকে জাকাত দিয়েছিলেন। (মুসলিম)

* ঋণমুক্তির জন্য: জীবনের মৌলিক চাহিদা পুরণের জন্য সংগত কারণে ঋণগ্রস্থ ব্যক্তিদের ঋণমুক্তির জন্য জাকাত প্রদান করা যায়। সেসব গরীব যারা ঋণ করেছে এবং শোধ করার সামর্থ নেই তাদের জাকাতের টাকা দিয়ে সাহায্য করা যাবে।

* দাসমুক্তি: কৃতদাসকে মুক্তির জন্য এ প্রথা এখন প্রযোজ্য নয়।

* ফি সাবিলিল্লাহ বা আল্লাহর পথে: সাবিলিল্লাহ শব্দের অর্থ ব্যাপক। যেসব কাজ দ্বারা আল্লাহর সন্তোষ ও নৈকট্য লাভ করা যায় তাকেই ফি-সাবিলিল্লাহ্ বুঝায়। অন্যকথায় মুসলিম জনগণের কল্যাণকর যাবতীয় কাজ যার ফলে দ্বীন ও রাষ্ট্রের স্থিতি আসে এমন কাজ। যেমন- এতিমখানায় দেয়া যেতে পারে, যেখানে গরীব বাচ্চারা লেখাপড়া করে। তবে প্রাপ্ত যাকাত বা ফিতরার টাকা থেকে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা দেয়া যাবে না। (আদ দুররুল মুখতার-৩৪৩, হিদায়া-১/১৮৫, রূহুল মাআনী-৬/৩১৩)

* মুসাফির/প্রবাসী: পথে বা প্রবাসে মুসাফির অবস্থায় কোনো ব্যক্তি বিশেষ কারণে অভাবগ্রস্থ হলে ওই ব্যক্তির বাড়িতে যতই ধন-সম্পদ থাকুক না কেন তাকে যাকাত প্রদান করা যাবে।

উপরে উল্লিখিত ক্যাটাগরিতেই কেবল যাকাত আদায় হবে। অন্য কাউকে যাকাত দিলে তা আদায় হবে না। ফুক্বাহায়ে কেরাম যাকাত আদায়ের জন্য একটি শর্তারোপ করেছেন এই যে, যাকাতের টাকার মালিক বানিয়ে দিতে হবে দানকৃত ব্যক্তিকে। যদি মালিক বানিয়ে দেয়া না হয়, তাহলে যাকাত আদায় হবে না।


সম্পাদক

নির্বাহী সম্পাদকঃ মাসুদ রানা পলক প্রকাশক মোঃ আবুল হাসান মোবাইল নাম্বার 01860003666

বার্তাকক্ষ

মোবাইল নাম্বার 09638870180