৩ দিন ধরে আগুন লাগেনি বালিয়াডাঙ্গীর সেই গ্রামে, জেনে নিন মূল ঘটনা

ওয়েব ওয়েব

ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:১৮ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২১

থেমে থেমে যেখানে সেখানে আগুন জ্বলে উঠা বন্ধ হয়েছে বালিয়াডাঙ্গীর ছোট সিঙ্গিয়া গ্রামে। গোয়েন্দা পুলিশ বলছে নারীসহ ১২ জনকে গ্রেফতারের পর আগুন জ্বলে উঠা বন্ধ হয়েছে। নিজেরাই ঘরে আগুন জ্বালিয়ে নাটক সাজিয়েছিল গ্রামবাসী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারও করেছে ওই ১২ জন।

ঘটনার সুত্রপাত :
গত মার্চ মাসের ২৮ তারিখে ওই গ্রামের সালেহা বেগমের ২টি গোয়ালঘর ও ২ বিঘা জমির গমে আগুন দেয় কে বা কাহারা। ওই আগুনে সালেহা বেগমের প্রায় ৪ লক্ষাধিক টাকা ক্ষতি হয়। এর গত ৬ এপ্রিল সালেহা বেগমের চাচা সিরাজ উদ্দীনের ধানের কাড়ি রাখার ঘরে আগুন দেয়। প্রায় লক্ষাধিক টাকা ক্ষতি হয়।

সালেহা বেগমের দায়ের করা এজাহার থেকে জানা গেছে, এ ঘটনায় আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে গত ৮ এপ্রিল প্রতিবেশী ইনতাজ আলীর কাপড় কাঁচার বালতিতে আগুন লাগার গুজব রটানোর মধ্য দিয়ে নাটক শুরু হয়। এরপরে চলতে থাকে থেমে থেমে আগুন লাগার ঘটনা।

রহস্যময় আগুন ঘিরে আলোচনা :
গেল মাসের ২২ তারিখে স্থানীয় অনলাইন পত্রিকা আজকের বালিয়াডাঙ্গী প্রথম ঘটনাটি প্রকাশ করলে পরদিন থেকে দেশের স্বনামধন্য টেলিভিশন ও পত্রিকাগুলোতে পরে ঘটনা প্রকাশ হয়। স্থানীয়রা দাবি করেন, আগুনটি অলৌকিক, দৃষ্টির অগোচরে জ্বলে উঠে। পাশাপাশি আগুন নেভার জন্য পাম্প স্থাপন, বাড়ির বাহিরে কাপড় চোপড় রাখা। জ্বলে উঠা আগুনে কাপড়, আসবাবপত্র পোড়ানোসহ নানা নাটক শুরু হয়।

গণমাধ্যমে প্রকাশের পরের ঘটনা :

বিষয়টি একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশের পর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান দিলিপ কুমার চ্যাটার্জী বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ মোতায়ন করা হয়। তান্ত্রিক দিয়ে একাধিকবার চেষ্টা করেও সুরাহা সম্ভব হয়নি।

এদিকে সংবাদ প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নানা স্থানে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

প্রশাসনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সহযোগিতা :
৬ এপ্রিল তারিখ ওই গ্রামে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম ও ২৭ এপ্রিল জেলা প্রশাসক ডা. কামরুজ্জামান সেলিম ঘটনাস্থর পরিদর্শন করেন এবং পরিবারগুলো নগদ অর্থ এবং ঢেউটিন সহায়তা করেন।

মামলা ও গ্রেফতার :
গত ২৯ এপ্রিল সালেহা বেগম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামী করে বালিয়াডাঙ্গী থানায় গম ও গোয়াল ঘর পোড়ানের মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর রাতেই গোয়েন্দা পুলিশ ২৯ এপ্রিল রাতে ওই গ্রামের ১২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর মূল ঘটনা বেরিয়ে আসে। থেমে থেমে জ্বলে উঠা আগুন ছিল সাজানো।

রবিবার বিকালে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ওই ১২ জনকে গত ২৯ এপ্রিল বালিয়াডাঙ্গী থানায় ছোট সিঙ্গিয়া মুন্সিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সালেহা বেগমের দায়েরকৃত ঘর পোড়ানোর মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঠাকুরগাঁও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আসামীদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের নিকট ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। আগামী ৬ মে রিমান্ডের আবেদন শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত।

রহস্য উন্মোচন করলেন যিনি :

বিষয়টি উন্মোচন করেছেন ঠাকুরগাঁও গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মোসাব্বেরুল হক। তিনি বলেন, ঘটনাটির দায়িত্ব আমাকে দেওয়ার পর নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। আগুন জ্বলে উঠার প্রমাণ কেউ দিতে না পারায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১২ জনকে আটকের পর থেকে আগুন জ্বলে উঠা বন্ধ। তারা নিজেরাই স্বীকার করেছে আগুন নামের নাটক সাজানোর ঘটনা।

তিনি আরও জানান, গত ৩ দিন ধরে আর আগুন জ্বলেনি। এটা ষ্পষ্ট প্রমাণিত যে, আগুন নিজেরাই লাগিয়ে গুজব রটিয়ে এমন ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।

মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন যারা :

মামলায় গ্রেপ্তার আসামীরা হলেন ছোট সিঙ্গিয়া মুন্সিপাড়া গ্রামের দুই নারী মেহেরুন নেছা (৩৮) ও বিলকিস আক্তার (৩২)। অন্য ১০ জন হলেন মকসেদুল ইসলাম(৪৮), ইন্তাজ আলী(৪২), দেলোয়ার হোসেন(৩০), কফিল উদ্দীন(৩৯), ওবায়দুল্লাহ(৫৮), তহিদুর রহমান (৪৮), আজিম উদ্দীন চৌধুরী(৫৫), মন্টু আলম (৩২), সামসুজ্জোহা(৫৭), এহেতাসাম উল্লাহ (৫২)।


সম্পাদক

নির্বাহী সম্পাদকঃ মাসুদ রানা পলক প্রকাশক মোঃ আবুল হাসান মোবাইল নাম্বার 01860003666

বার্তাকক্ষ

মোবাইল নাম্বার 09638870180