ঢাকা, ১৬ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

আগামীকাল দেশব্যাপী আগাম ঈদ উদযাপিত হচ্ছে বেশ কয়েকটি জায়গায়

MD.Abul

Hasan

প্রকাশিত: ৯:৪২ অপরাহ্ণ, মে ১২, ২০২১

সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের কয়েকটি জেলার বিভিন্ন স্থানে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। শুক্রবার সকালে শতাধিক গ্রামে লক্ষাধিক মানুষ ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

চাঁদপুর
চাঁদপুর জেলার ৪০টি গ্রামে বৃহস্পতিবার আগাম ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। গেল ৯০ বছর ধরে ওই সব গ্রামের অধিকাংশ মুসলমানরা সৌদি আরবের সাথে সঙ্গতি রেখে ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো পালন করে আসছে। চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জ, মতলব দক্ষিণ ও কচুয়া উপজেলার ৪০টি গ্রামে প্রায় ৯০বছর ধরে এভাবে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়ে আসছে।
মুন্সীগঞ্জ
মুন্সীগঞ্জের ১১টি গ্রামে আগাম ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। আগাম এ ঈদে অংশ নিয়েছে মুন্সীগঞ্জের ১১ টি গ্রামের প্রায় ৭ হাজার মুসলিম বাসিন্দা। সকালে গ্রামগুলোতে পৃথক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

গ্রামগুলো হচ্ছে- সদর উপজেলার আনন্দপুর, শিলই, নায়েবকান্দি, আধারা, মিজিকান্দি, কালিরচর ও বাঘাইকান্দির একাংশ। সহ সিরাজদিখানের একটি গ্রামে আগাম ঈদ উদযাপিত হবে।

এছাড়াও চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশরপুর, অলিপুর, বেলচো, জাঁকনি, প্রতাপপুর, বলাখাল, মনিহার, গোবিন্দপুর ও দক্ষিণ বলাখাল। ফরিদগঞ্জ উপজেলার সেনাগাঁও, বাসারা উভারামপুর, উটতলী, মুন্সিরহাট, মূলপাড়া, বদরপুর, পাইকপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, কাইতাড়া, নুরপুর, শাচনমেঘ, শোলা, হাঁসা ও চরদুখিয়া। পাঁচআনী কচুয়া উপজেলার উজানি গ্রাম ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার দশআনী , মোহনপুর গ্রামের বাসিন্দারা ঈদ উদযাপন করছেন।

পটুয়াখালী
পটুয়াখালীর ২২টি গ্রামের আংশিক এলাকায় বৃহস্পতিবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন কয়েক হাজার মুসলমান পরিবার। জেলার সদর উপজেলার বদরপুর দরবার শরীফের পীর মাওলানা মোহাম্মদ ওসমান গনির অনুসারীরা বদরপুর গ্রামে এবং চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার পীর মাওলানা মোহাম্মদ মোকলেসুর রহমানের অনুসারীরা রাঙ্গাবলী উপজেলার ১০ টি, ও কলাপাড়া উপজেলার নিশানবাড়িয়া এলাকার মৃত পীর শফিজ উদ্দিন বিশ্বাসের অনুসারী ২ টি, বাউফল উপজেলার ৭ টি, মির্জাগঞ্জ উপজেলার ২টি গ্রামে সৌদি আরবের সাথে সঙ্গতি রেখে প্রায় ৫১ বছর যাবত রোজা, ঈদুল ফিতর সহ ইসলাম ধর্মীয় যাবতীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করে।

এবার তারা বলছেন, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বৃহস্পতিবার শাওয়ালের চাঁদ দেখায় বৃহস্পতিবার ঈদ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।তাদের মতে বিশ্বের যে কোন দেশে চাঁদ দেখা গেলেই ঈদ উদযাপন করতে পারবেন তারা। আগাম এ ঈদ উৎসব পালন নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে মত পার্থক্য থাকলেও কখনো কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার নজির নেই। তবে মতপার্থক্য নিরসনে সরকারী পদক্ষেপ দাবী করেন অনেকে।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঐসব এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে ।

বরিশাল
বরিশালমহানগরীসহ বিভিন্ন উপজেলায় আজ প্রায় এক হাজার পরিবার ঈদ পালন করেছে।

জামালপুর
সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার ১০ টি গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে।

ভোলা
ভোলার ২ হাজার এর অধিক পরিবার ঈদুর ফিতর পালন করছে। এছাড়াও পর্যায়ক্রমে ভোলার সাত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

চট্টগ্রাম:
সৌদিআরব সহ মধ্য প্রাচ্যের সাথে মিল রেখে দক্ষিণ চট্টগ্রাম এবং উত্তর চট্টগ্রামে প্রায় ৪০টি গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। যুগ যুগ ধরে সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে একদিন আগে থেকে রোজা পালন ও ঈদুল ফিতর উদযাপন করে আসছেন।

এছাড়াও চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, আনোয়ারা, বাঁশখালী, পটিয়া, বোয়ালখালী, সীতাকুন্ড সহ জেলার বিভিন্ন গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন এ দরবারের অনুসারীরা।

একইসাথে কক্সবাজারের মহেশখালী, টেকনাফ, হ্নীলাতেও এ দরবারের অনুসারীরা ঈদ উদযাপন করছেন।

এছাড়াও শরীয়তপুর ও পিরোজপুরের কয়েকটি স্থানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে ঈদ উদযাপনের হবে।

  • এই বিভাগের সর্বশেষ

    Translate »
    error: Content is protected !!