‘হুমকি’র আইনগত প্রতিকার কী?

প্রকাশিত: ২:২২ অপরাহ্ণ, মে ৩১, ২০২১

ডেস্ক ‘হুমকি’র আইনগত প্রতিকার কী? কেউ কাউকে হুমকি দিলে তার আইনি পদক্ষেপ কী হবে এবং এর সর্বোচ্চ শাস্তি কী হতে পারে? এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ ও আইনজীবীরা বলেছেন, ‘কেউ হুমকির শিকার হলে তাকে অবশ্যই থানায় যেতে হবে। সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পুলিশকে অবহিত করতে হবে। এরপর পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে। তাছাড়া হুমকি’র শিকার ব্যক্তি দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারার ক্ষমতাবলে সরাসরি আদালতেও অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। প্রয়োজনে পুলিশও স্বপ্রণোদিত হয়েও যেকোনও নাগরিকের পক্ষে আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারেন।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামালকে হেফাজতে ইসলাম নেতাদের প্রকাশ্য হুমকি’র বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ কী হতে পারে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘হত্যার হুমকি দিলে থানায় জিডি এন্ট্রি করতে হবে। জিডি এন্ট্রি করলে পুলিশ ফৌজদারি দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে একটা নন-এফআইআর প্রসিকিউশন দাখিল করতে পারে। জিডির পর পুলিশ তদন্ত করবে। তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশ বলবে, জিডির পর তদন্ত করে দেখা গেছে, হুমকি দেওয়ার ঘটনা সঠিক। অতএব হুমকিদাতার বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর জন্য দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় প্রতিবেদন দাখিল করা হলো। এরপর বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে।’

‘হুমকির শিকার ব্যক্তি কিংবা তার পক্ষে যেকেউ এ জিডি করতে পারেন, আদালতেও সরাসরি যেতে পারবেন একই ধারার ক্ষমতাবলে’, যোগ করেন এই আইনজীবী।

পুলিশের পক্ষ থেকে স্বপ্রণোদিত হয়ে এ বিষয়ে কিছু করা সম্ভব কিনা জানতে চাইলে আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘অবশ্যই হুমকি’র শিকার ব্যক্তি কিংবা তার পক্ষে যে কাউকে জিডি করতে হবে। কারণ, পুলিশকে হুমকি’র বিষয়টি জানতে হবে ও তথ্য পেতে হবে। এছাড়া রাষ্ট্রের যদি কোনও বিশিষ্ট নাগরিক হুমকির শিকার হন, তাহলে পুলিশও বলতে পারে, ‘তার নিরাপত্তা দেওয়া দরকার। বিষয়টা থানায় নোট বা ডায়েরি করা হলো। তার নিরাপত্তার জন্য পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।’ কারণ, পুলিশ যদি দেখে যেকোনও নাগরিক হুমকি’র সম্মুখীন, তাহলে যেকোনও মুহূর্তে কোনও অভিযোগ ছাড়াই আইনগত পদক্ষেপ নিতে পারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য। তবে স্বপ্রণোদিত হয়ে কিছু করতে গেলে পুলিশের কর্মকাণ্ড অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।”

প্রকাশ্যে হুমকির সাজা প্রসঙ্গে আইনজীবী আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণ হুমকি হলে ৫০৬ ধারায় শাস্তি দুই বছর হতে পারে। আর হত্যার হুমকি হলে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবনও হতে পারে হুমকিদাতার।’

হেফাজত নেতাদের প্রকাশ্য হুমকির বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেবেন কিনা জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল বলেন, ‘পুলিশ নিজেরাই এসে আমার সঙ্গে কথা বলে নিরাপত্তা দিচ্ছে। ব্যাপারটা হচ্ছে- তারা তো (হেফাজত নেতারা) প্রকাশ্যেই হুমকি দিয়েছেন। সরকার ও প্রশাসন সেটা শুনেছে। তারাই সেটা সামলাবে।’

কিন্তু যিনি ‘হুমকি’র শিকার হয়েছেন তাকে তো আইনের আশ্রয় চাইতে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেখা যাক আমি আমার আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলছি।’

সুলতানা কামালকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি’র পর পুলিশের পক্ষ থেকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কোনও সুযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি এ এস এম মাসুম রাব্বানী বলেন, ‘না কিভাবে করবে? আপনি মনে করেন, আপনাকে কেউ হুমকি দিয়েছে, আপনি যদি আমাকে না জানান, তাহলে আমার পক্ষে জানার সুযোগ আছে কি? বাদি লাগবে। পুলিশের যেকোনও কাজে বাদি লাগে। একটা মানুষ মারা গেলে যদি বাদি না পাওয়া যায় তখন পুলিশ বাদি হতে পারে। কিন্তু কেউ হুমকি দিয়েছে সেটা তাকেই বলতে হবে। তাকে যদি কেউ হুমকি দিয়ে থাকে তাহলে তাকে পুলিশ স্টেশনে যেতে হবে। আর এরকম স্পর্শকাতর বিষয়ে পুলিশ নিজে থেকে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেবে?’

সুলতানা কামালের নিরাপত্তা ও হুমকির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হত্যার হুমকি’র বিষয়ে সুলতানা কামালের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনও অভিযোগ পাইনি। তবে তিনি বিশিষ্ট নাগরিক হিসেবে তার নিরাপত্তার বিষয়টি আমরা সব সময় দেখে থাকি। এখনও দেখছি।’

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনে সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে ভাস্কর্য সরানোর বিষয়ে টকশো প্রচারিত হয়। ওই টকশোতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল ভাস্কর্য সরানোর বিষয় নিয়ে হেফাজত নেতাদের বক্তব্যের সূত্র ধরে বক্তব্য দেন। তার ওই বক্তব্যের জের ধরে গত শুক্রবার (২ জুন) হেফাজত নেতারা তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দেন। ওইদিন সংগঠনের ঢাকা মহানগরের সহ-সভাপতি জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, “সুলতানা কামালকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করুন। না হয় তাকে তসলিমা নাসরিনের মতো দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিন। সাহস কত সুলতানা কামালের! তিনি (সুলতানা কামাল) বলেছেন, ‘ভাস্কর্য থাকতে না দিলে মসজিদ থাকতে দেওয়া হবে না।’ সুলতানা কামাল রাজপথে নেমে দেখুন, হাড্ডি-গোস্ত রাখা হবে না।”

অন্যদিকে, ক্ষমা না চাইলে সুলতানা কামালকে চট্টগ্রামের মাটিতে নামতে দেওয়া হবে না বলেও গত ৪ জুন হুমকি দেন সংগঠনটির চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির নেতারা।


সম্পাদক

নির্বাহী সম্পাদকঃ মাসুদ রানা পলক প্রকাশক মোঃ আবুল হাসান মোবাইল নাম্বার 01860003666

বার্তাকক্ষ

মোবাইল নাম্বার 09638870180