স্ত্রীকে হত্যা করে শালিকার সাথে সুখের সংসার, ৭ মাস পর ধরা

ঠাকুরগাঁও ২৪ ঠাকুরগাঁও ২৪

নিউজ পেপার ওয়েব ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২০ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০২১

ঢাকার কেরানীগঞ্জে স্ত্রীকে হত্যার পর তার বোন আরিফা আক্তার (২০) কে বিয়ে করার প্রায় সাত মাসের মাথায় খুনের কথা স্বীকার করেছেন স্বামী মো. ইকবাল (৩৫) নামে এক ব্যক্তি।

মঙ্গলবার (১৫ জুন) দুপুরে আটকের পর স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে স্বামী ইকবালের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী রাজেন্দ্রপুর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পেছনে চর কদমপুর এলাকার ভাড়া বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে স্ত্রী মোহনার (২৫) কয়েকটি হাড় উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় আরিফা আক্তার (২০) কে আটকের সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) শাহাবুদ্দিন কবির।

জানা গেছে, উপজেলার বাস্তা ইউনিয়নের বটতলী গ্রামের মৃত আব্দুল হকের ছেলে ইকবালের সাথে ৬ বছর আগে বিয়ে হয় একই ইউনিয়নের ভাওয়ারভিটি গ্রামে মামার বাড়ি বড় হওয়া রহিমা বেগমের মেয়ে মোহনার। ইকবাল-মোহনার অভাব অনাটনের সংসার ভালোই চলছিলো। মোহনার মা তার ছোট মেয়ে আরিফাকে মেয়ের বাড়ি রেখে বিদেশে গেলে অশান্তি শুরু হয় তাদের সংসারে। মোহনার ছোট বোন আরিফা তাদের সংসারে আসার পর দুলাভাই ইকবালের সাথে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। আরিফাকে অন্যত্র বিয়ে দিলেও সে তাকে নিয়ে একাধিকবার পালিয়ে যায়। এ নিয়ে একাধিকবার বিচার-বৈঠক হলেও সমাধান হচ্ছিলো না কোন।

আর জানা গেছে, এক সময় এলাকাবাসী ইকবাল ও শালি আরিফাকে মারধর করলে দুই বছর আগে স্ত্রীকে নিয়ে রাতের আঁধারে পালিয়ে যায় সে। এরপর থেকে স্ত্রী সন্তান নিয়েই জেলখানার পিছনে চর কদমপুর আজিজুলের বাসায় ভাড়া থাকতো সে। এ সময় পরিবারটির সাথে তার তেমন যোগাযোগ ছিলো না শালির সাথে সব সময় যোগাযোগ ছিলো।

মোহনার মা রাহিমা জানান, আমি বিদেশে থাকার কল্যাণে ছোট মেয়েও বড় মেয়ের সাথেই থাকতো। তাদের মাঝে খারাপ সম্পর্কও ছিলো। বহু কষ্ট করেও তাদের অবৈধ কর্মকাণ্ড ফিরানো যায়নি। গত নভেম্বর মাসের ২২ তারিখ শুনি আমার বড় মেয়ে মোহনা বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে। তবে আমার এটা বিশ্বাস হয়নি। তাই বাড়িতে এসে গত ১১ জুন (শুক্রবার) মেয়ের জামাই ইকবাল ও ছোট মেয়ে আরিফাকে আসামি করে থানায় অভিযোগ করি।

পরদিন শনিবার (১২ জুন) জামাই ইকবাল ও ছোট মেয়ে আরিফাকে আটক করে পুলিশ। মেয়ের জামাই ইকবালে স্বীকারোক্তিতেই মেয়ের কংকাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। আমি মেয়ে হত্যাকারীর বিচার চাই। আমার ছোট মেয়ে জড়িত থাকলে তারও বিচার চাই।

আটক ইকবালের মা জানান, আমরা শুনেছি বউ কোথায় যেন চলে গেছে, সে ৩ ও ৪ বছর বয়সী ২টি মেয়ে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকতো। আজ হঠাৎ শুনি এই খবর। বউও খুব ভালো মানুষ ছিলো। শালী আরিফা আমার ছেলের মাথাটা নষ্ট করছে। এখন বাচ্চাগুলোর কি অবস্থা হবে।

এ বিষয় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।


সম্পাদক

নির্বাহী সম্পাদকঃ মাসুদ রানা পলক প্রকাশক মোঃ আবুল হাসান মোবাইল নাম্বার 01860003666

বার্তাকক্ষ

মোবাইল নাম্বার 09638870180