রাণীশংকৈল বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টে সুযোগ পেলো বালকেরা বঞ্চিত বালিকারা

প্রকাশিত: ২:১৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২১

আনোয়ার হোসেন আকাশ,রাণীশংকৈল(ঠাকুরগাঁও)প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট,বালক(অনুর্দ্ধ-১৭) ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট,বালিকা(অনুর্দ্ধ-১৭) শেখ রাসেল মিনি ষ্টেডিয়ামে আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা।

চলতি সপ্তাহের শনিবার এ খেলার উদ্বোধন করে দুদিনের মধ্যে চুড়ান্ত খেলা দিয়ে সোমবার টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন কাশিপুর ইউনিয়নকে ট্রফি তুলে দিয়ে সমাপ্ত করা হয়েছে। এ টুর্নামেন্টে উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভুমি) ভারপ্রাপ্ত ইউএনও প্রীতম সাহা’র সভাপতিত্বে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আযম মুন্না ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সাবেক সাংসদ ইয়াসিন আলী পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান ভাইস চেয়ারম্যান শেফালী বেগম ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা সহ স্থানীয় গণামন্য ব্যক্তিবর্গ। টুর্নামেন্টে বালকদের খেলতে দেখা গেলেও, দেখা মেলেনি বালিকাদের। গত বছরের টুর্নামেন্টে বালিকাদের নিয়ে প্রীতি ম্যাচ হলেও এবারে তা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ ও পৌর মেয়র তাদের নির্বাচিত এলাকা থেকে অনুর্দ্ধ-১৭ বালক,বালিকাদের যাচাই বাছাই করে একটি দল গঠন করে। সে দল দিয়ে টুর্নামেন্টে অংশ গ্রহণ করবে। এ জন্য খেলোয়ার প্রতি নগদ পাঁচশত টাকা করে সন্মানিও দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে তার ব্যত্যয় ঘটেছে রাণীশংকৈল উপজেলায়। খেলায় বালকেরা অংশ গ্রহণ করলেও, বঞ্চিত হয়েছে বালিকারা।

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা সুত্রে জানা গেছে, এ টুর্নামেন্ট উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন পরিষদের দল ও পৌরসভার দল মিলে মোট ৯টি দলের অংশ গ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। টুর্নামেন্টে বালক ও বালিকাদের অংশ গ্রহণে খেলার সরকারী নির্দেশনা থাকলেও শুধু বালকদের খেলিয়েই টুর্নামেন্ট সমাপ্ত করা হয়েছে।খেলা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এ উপজেলার বালিকারা।

অথচ রাণীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা ইউয়িনের কোচল নন্দুয়ার ও হোসেনগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ও সমগ্র্রহ উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের বালিকাদের নিয়ে একটি দল রয়েছে রাণীশংকৈল রাঙ্গাটুঙ্গি ইউনাইটেড নারী ফুটবল দল। যে দলের ৯ জন বিকেএসপিতে রয়েছেন ।এবং জাতীয় অনুর্দ্ধ-১৭ দলে রয়েছেন ৩ জন বালিকা ফুটবলার। এখানকার দু-জন খেলোয়ার ইতিমধ্যে দেশের হয়ে বিদেশের মাটিতেও খেলেছেন।

সাবেক ফুটবলার ও রাঙ্গাটুঙি ইউনাইটেড বালিকা ফুটবল দলের কোচ জয়নুল বলেন, গত বছর টুর্নামেন্টে উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলের বালিকাদের নিয়ে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলা হয়েছে। তবে এবারে তা করা হয়নি। তিনি আরো বলেন,প্রাথমিক পর্যায় থেকে এখন ফুটবল খেলছে মেয়েরা। সরকারের এমন মহৎ উদ্যোগে যদি গ্রাম গঞ্জের মেয়েদের উৎসাহ দেওয়া হতো অব্যশই তারা দল গঠন করে খেলতো,পাশাপাশি সরকারের উদ্যোগও সফলতা পেতো। তারপরেও যারা বর্তমানে খেলছে তাদের সম্বন্বয় করে দুটি বা চারটি দল গঠন করে খেলানো যেতো তাও অন্যান্য বালিকারা উৎসাহ পেতো খেলোয়ার সৃষ্টি হতো। কিন্তু তা করা হয়নি, যা দুঃখজনক।

উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও পৌর আ’লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মুঠোফোনে জানান, এবারে খুব সংক্ষিপ্ত আয়োজনে খেলা শেষ করা হয়েছে। বালিকাদের খেলার নির্দেশনা এবারে ছিলো না। তাই বালিকারা এবারে খেলতে পারেনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এবারে খেলার বরাদ্দ মোট ২ লাখ ৩ হাজার ৮শত টাকা বাজেট পাওয়া গেছে। যা খেলোয়ার সহ সংশ্লিষ্টদের মাঝে বিতরণ করা হবে। বরাদ্দকৃত অর্থ এখনো উত্তোলন করা হয়নি,হলে তা বিতরণ করা হবে।

অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) প্রীতম সাহা মুঠোফোনে জানান, ইউনিয়নগুলোতে বালিকা দল পাওয়া যায় নি, কোন ইউনিয়নে গেলেও পুরো দল পাওয়া যায় নি। তাই খেলা হয়নি। তবে উপজেলায় একটি সম্বলিত বালিকা দল করে জেলায় পাঠানো হবে।

তবে ভারপ্রাপ্ত ইউএনও’র এ বক্তব্যর পুরো উল্টো বলেছেন টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ মুঠোফোনে জানান, আমাদের বালক দল দিতে বলেছে দিয়েছি। নারী দলের কথা বলেনি। একই কথা গত বুধবার মুঠোফোনে এ প্রতিবেদকে জানিয়েছেন রাতোর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত)প্রীতম সাহা বলেন, নিয়নুযায়ী খেলা হয়েছে, গেল বার যদি মেয়েরা খেলে থাকে তাহলে এবারে কেন মেয়েরা খেলতে পারলো না সেটি দেখা হবে।


সম্পাদক

নির্বাহী সম্পাদকঃ মাসুদ রানা পলক প্রকাশক মোঃ আবুল হাসান মোবাইল নাম্বার 01860003666

বার্তাকক্ষ

মোবাইল নাম্বার 09638870180