পানি বাড়ায় বন্যার আশঙ্কা, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি এলাকাবাসীর

ঠাকুরগাঁও ২৪ ঠাকুরগাঁও ২৪

নিউজ পেপার ওয়েব ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩:১৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩, ২০২১

দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েক দিন ধরেই চলছে টানা বৃষ্টি। কখনও মুষলধারে কিংবা কখনও গুঁড়ি গুঁড়ি। সেই সঙ্গে নেমেছে উজানের ঢলও। এতে বেড়ে যাচ্ছে নদ-নদীর পানি। তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলো সামান্য পানিতে তলিয়ে যাওয়াও ভবিষ্যতে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে কুড়িগ্রামের ধরলা, তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমারসহ সব নদ-নদীর পানি বেড়েছে। প্লাবিত হয়েছে তীরবর্তী নিচু এলাকা। এদিকে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার ৩০ গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধরলা নদীর তীরবর্তী জগমোহন চরের বাসিন্দারা রয়েছেন বন্যা আতঙ্কে। গত বছরেও চরটি পানিতে ডুবে যায়। বাঁধটিও রয়েছে ভাঙনের ঝুঁকিতে। এতে মাত্র ২০০ মিটার দূরে থাকা স্থলবন্দরের মহাসড়ক, বাজার, স্কুল, ব্যাংক তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার ফেনীর মুহুরী নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের তিনটি স্থানে ভেঙে কমপক্ষে ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। পরদিন থেকে পানি কমতে শুরু করায় দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে ক্ষয়ক্ষতি। স্থানীয়রা জানান এতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

টানা বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেতাই নদীর বাঁধ ভেঙে সৃষ্ট বন্যায় এখনো পানিবন্দি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার ৩০ গ্রামের কয়েক হাজার পরিবার। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, বীজতলা, মাছের খামার। চরম দুর্ভোগে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ। নেতাই নদীর পাড়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

শনিবার (০৩ জুলাই) সকালে বন্যাকবলিতরা জানান, বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কমেনি ধোবাউড়া উপজেলার নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারীদের। বাড়িঘর থেকে পানি নামলেও এখনো পানিবন্দি ৩০ গ্রামের অন্তত ৫ হাজার পরিবার। তলিয়ে আছে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও বীজতলা। ভেসে গেছে শত শত পুকুরের মাছ। পানি নেমে যাওয়ায় এলাকার রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটসহ সব মিলিয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ।

নেতাই নদীর পাড়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

যুগে পর যুগ বাঁধের জন্য আবেদন করেও কোনো প্রতিকার হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ধোবাউড়া পুরাকান্দুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য মো. এনামুল হক।

এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা এবং ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাফিকুজ্জামান। গত বুধবার ভোরে ধোবাউড়ার চারটি স্থানে নেতাই নদীর বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয় ৫টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা।


সম্পাদক

নির্বাহী সম্পাদকঃ মাসুদ রানা পলক প্রকাশক মোঃ আবুল হাসান মোবাইল নাম্বার 01860003666

বার্তাকক্ষ

মোবাইল নাম্বার 09638870180