সিনহা হত্যা: সাক্ষ্য দিচ্ছেন পঞ্চম সাক্ষী

ঠাকুরগাঁও ২৪ ঠাকুরগাঁও ২৪

নিউজ পেপার ওয়েব ডেস্ক

প্রকাশিত: ২:১৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৭, ২০২১

কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছরা শামলাপুর চেকপোস্টে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলার বিচারকার্যের ষষ্ঠদিনে পঞ্চম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
ঘটনার আরেক প্রত্যক্ষদর্শী হাফেজ মো. আমিনের জবানবন্দি গ্রহণের মাধ্যমে মঙ্গলবার ১০টা ৫ মিনিটে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম।

তিনি বলেন, হাফেজ মো. আমিনের সাক্ষ্যের গুরুত্ব অত্যধিক। কারণ তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দিয়েছিলেন। তাই সিনহার সফরসঙ্গী সিফাতের মতো হাফেজ আমিনের জবানবন্দি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পিপি আরো বলেন, আদালতের কার্যক্রম শুরুর সঙ্গে সঙ্গে আসামি প্রদীপ কুমার দাশের আইনজীবী রানা দাশ গুপ্ত আদালতের কাছে নিবেদন করেন যে, তার মক্কেলকে সরকারি নিয়মনীতির আলোকে একজন প্রথম শ্রেণির অফিসার হিসেবে কারাগারে যে সুবিধা পাওয়ার অধিকার রাখেন, তা থেকে প্রদীপ কুমার বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই কারাবিধি অনুসারে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের দাবি জানান। আদালত কারাবিধি অনুসারে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আদেশনামা পাঠানো হবে বলে উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষের অপর আইনজীবী, ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি যে রিপোর্ট দিয়েছিলেন তা তলবের আবেদন করলে আদালত নাকচ করে দেন। প্রয়োজন অনুসারে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি তা উপস্থাপন করার কথা বললে পিপি তার বিরোধিতা করে বলেন, এটি একটি রাষ্ট্রীয় নথি, এটি এ মামলায় এ মুহূর্তে উপস্থাপন করার প্রয়োজন নেই। পরে আদালত সাক্ষী হাফেজ মো. আমিনের জবানবন্দি রেকর্ড করা শুরু করেন বলে বিচারকার্যে সংশ্লিষ্ট একাধিক আইনজীবী জানান।

আদালতের সংশ্লিষ্ট আইনজীবী বাপ্পী শর্মা জানান, অন্যদিনের মতো সকাল পৌনে ১০টার দিকে মামলার আসামি সাবেক ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকতসহ ১৫ আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। দ্বিতীয় দফার তৃতীয়দিনের জন্য হাফেজ মো. আমিন, শওকত আলী ও সাইফুল আবছার আবুইয়ার সাক্ষ্যের হাজিরা দেওয়া হয়। প্রথমদিন ছয়জনের এবং দ্বিতীয়দিনে তিনজনের হাজিরা দেওয়া হলেও মাত্র একজন করেই সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। এরপরও সাক্ষ্য দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার আশায় আজকেও তিনজনের হাজিরা দেওয়া হয়েছে।

অ্যাডভোকেট ফরিদ বলেন, আমাদের প্রচেষ্টা থাকে হাজির সবার সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন করার। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের অসহযোগিতায় সেটা সম্ভব হয় না। তারা সাক্ষীকে অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করে সময় নষ্ট করেন। আর ১৫ আসামির ১৫ আইনজীবী আলাদাভাবে আধা ঘণ্টা করে জেরার সময় নিয়ে সাড়ে সাত ঘণ্টা সময় লাগে। জবানবন্দি নিতেও সময় লাগে ঘণ্টা দেড়েক। এতে আদালতের কর্মঘণ্টা ৯ ঘণ্টা এবং মধ্যাহ্ন বিরতিসহ দাঁড়ায় ১০ ঘণ্টা। ফলে একজনের বেশি সাক্ষ্যে আগানো সম্ভব হয়ে উঠছে না।

আদালতের সূত্র জানায়, গত ২৩ আগস্ট মেজর সিনহা হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণে আদালতের নির্ধারণ করা প্রথম তিনদিনের প্রথমদিন পুরো ও দ্বিতীয়দিনের অর্ধেক সময় মামলার বাদী নিহত সিনহার বড় বোন শারমিন ফেরদৌসের সাক্ষ্য ও জেরা হয়। পরে শুরু হয় সিনহার সফরসঙ্গী ও হত্যার অন্যতম প্রত্যক্ষদর্শী সিফাতের সাক্ষ্য। এ দুজনের সাক্ষ্য ও জেরার মধ্য দিয়ে শেষ হয় বিচারকার্যের প্রথম নির্ধারিত তিনদিন। ফলে এ তিনদিনের জন্য নোটিশ পাওয়া ১৫ সাক্ষীর মাঝে বাকি ১৩ জনের সাক্ষ্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

২৫ আগস্ট আদালত ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর টানা চারদিন পরবর্তী সাক্ষ্যের জন্য দিন ধার্য করেন। সেই মতে রোববার সকাল সোয়া ১০টার দিকে বাকি সাক্ষীদের একজনের সাক্ষ্য শুরু হয়ে সারাদিন তাকেই জেরায় দিন শেষ হয়। দ্বিতীয় দিনও একইভাবে একজন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা হয়েছে। মামলায় মোট সাক্ষী ৮৩ জন। সাক্ষ্য ও জেরার সময় ১৫ আসামি কাঠগড়ায় উপস্থিত থাকছেন। পুরো জেলা জজ আদালত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ওই সময় তার সঙ্গে থাকা সাহেদুল ইসলাম সিফাতকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর নীলিমা রিসোর্টে ঢুকে তার টিমের দুই সদস্য শিপ্রা দেবনাথ ও তাহসিন রিফাত নুরকে আটক করে। পরে তাহসিনকে ছেড়ে দিলেও শিপ্রা ও সিফাতকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ। এই দুজন পরে জামিনে মুক্তি পান।

সিনহা হত্যায় মোট চারটি মামলা হয়। ঘটনার পর পরই পু তিনটি মামলা করে লি। এর মধ্যে দুটি মামলা হয় টেকনাফ থানায়, একটি রামু থানায়। ঘটনার পাঁচদিন পর অর্থাৎ ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। চারটি মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় র‍্যাব।

২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও র‍্যাবব-১৫ কক্সবাজারের সিনিয়র এএসপি মো. খায়রুল ইসলাম।

অভিযুক্তদের মাঝে পুলিশের ৯ সদস্য হলেন- বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, পরিদর্শক লিয়াকত আলী, কনস্টেল রুবেল শর্মা, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুল করিম, কামাল হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এএসআই লিটন মিয়া ও কনস্টেবল সাগর দেব নাথ।

বাকি আসামিরা হলেন- আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) সদস্য এসআই মো. শাহজাহান, কনস্টেবল মো. রাজিব ও মো. আব্দুল্লাহ এবং টেকনাফের বাহারছড়ার মারিশবনিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পুলিশের করা মামলার সাক্ষী নুুরল আমিন, মো. নিজাম উদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন।

আসামিদের ১২ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে ওসি প্রদীপ, কনস্টেবল রুবেল শর্মা ও সাগর দেব নাথ জবানবন্দি দেননি। এর আগে, আসামিদের তিন দফায় ১২ থেকে ১৫ দিন রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল।


সম্পাদক

নির্বাহী সম্পাদকঃ মাসুদ রানা পলক প্রকাশক মোঃ আবুল হাসান মোবাইল নাম্বার 01860003666

বার্তাকক্ষ

মোবাইল নাম্বার 09638870180