ঐতিহ্যময় গ্রামীণ খেলা দাঁড়িয়াবান্দা


ঠাকুরগাঁও ২৪ নিউজপেপার ডেস্ক প্রকাশের সময় : ডিসেম্বর ২১, ২০২২, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ /
ঐতিহ্যময় গ্রামীণ খেলা দাঁড়িয়াবান্দা

গ্রামীণ লোক-সংস্কৃতি ঐতিহ্যময় শিশু-কিশোরদের মজার খেলা দাঁড়িয়াবান্দা, কানামাছি, বৌছি, হাঁ-ডু-ডু, পাক্ষি খেলা, গোল্লাছুট, ঢাংগুলি, মারবেল, হাঁসধরা, রশিটানা, ইচিং-বিচিং, ওপেন টু বায়োস্কোপ, মল্লব যুদ্ধ, লাঠিখেলা, লুকোচুরি, মোরগ লড়াই, কড়ি, ধাপ্পা, কুতকুত, বিস্কুট খেলা, যেমন খুশি তেমন সাঁজ, পুতুলের বিয়ে, চড়ুইভাতি, এলাডিং বেলাডিং, সাত চাড়া, বিয়ের গান উল্লেখযোগ্য।
এ সব জনপ্রিয় খেলা দিন দিন আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে। গ্রামাঞ্চলে এখনও টিকে আছে এসবের মধ্যে কয়েকটি খেলা। তবে বৈশাখ এলেই লোক-সংস্কৃতি ও আর গ্রামীণ খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। কখনো তা স্থানীয়দের উদ্যোগে আবার কখনো সরকারি কোনো দফতর অথবা জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে।

গ্রামাঞ্চলে ভাই, বোন, বন্ধু-বান্ধব, পাড়া প্রতিবেশীকে নিয়ে পড়ন্ত বিকেলে, জ্যোস্না রাতে দাঁড়িয়াবান্দা, গোল্লাছুটসহ বেশ কিছু গ্রামীণ খেলাগুলো নিজ নিজ এলাকায় প্রচলিত রয়েছে। রাজাপুর উপজেলার উত্তর নারিকেল বাড়িয়া গ্রামের কারামাতিয়া ঈদগাহে বিভিন্ন বয়সীরা এ খেলায় অংশ নেয়।

স্থানীয় শিশু-কিশোররাও খেলাটি মনোযোগ দিয়ে উপভোগ করেন।

মধ্যবয়সীরা আক্ষেপ করে বলেন, দু’যুগ আগেও হারিয়ে যাওয়া লোক-সংস্কৃতি হরহামেশই মত্ত ছিল। আধুনিকতার ছোঁয়ায় লোক-সংস্কৃতি আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

এক সময় গ্রামীণ উৎসবগুলো সব বয়সী মানুষের প্রাণের খোরাক বলে গণ্য হতো। আধুনিকতার ছোঁয়ায় মোবাইল সংস্কৃতিতে শিশু-কিশোররাও ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা থেকে অজানা রয়ে যাচ্ছে। এই জগতে জায়গা করে নিয়েছে মোবাইল ফোনে ভিডিও গেম, যান্ত্রিক সভ্যতায়। দেশীয় সংস্কৃতির পরিবর্তে স্থান করে নিয়েছে ভার্চুয়াল জগতের কু-সংস্কৃতি। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই খেলার মাঠ বাদ দিয়ে মোবাইলে গেম খেলছে। কোথাও কোথাও খেলার মাঠ, পতিত জায়গা, বাড়ির ওঠানও আগের মতো নেই। সেই কারণে সামাজিক অবক্ষয় ও তরুণরা নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে।

শুক্তাগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ইদ্রিস হোসেন জানান, নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের ঐহিত্যবাহী লোক-সংস্কৃতির পরিচয় করিয়ে দেয়া প্রয়োজন। যাতে আধুনিককালে তারা এই খেলা মায়ার বাঁধনে বুকে লালন করতে পারে। মানব জীবনে শরীরচর্চা ও চিত্তবিনোদনের কথাও বাদ বা হেলাফেলা করাও যায় না।

ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা উদ্ধারে স্কুল ও কলেজের পাশাপাশি মাদরাসায় আগের ন্যায় সরকারি-বেসরকারিভাবে উদ্যোগ ও নিয়ম বেঁধে দেয়া প্রয়োজন। যখন প্রকৃতি থেকে কোনো কিছু হারিয়ে বা বিলুপ্তি ঘটে তখন দারুণ কদর বাড়ে। লালন শাহ্’র গান ‘সময় গেলে সাধন হবে না’। যা আমাদের সবার ধরে রাখা প্রয়োজন। ঈদগাহে বিভিন্ন বয়সীদের দাঁড়িয়াবান্দা খেলা প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

subscribers