• ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার জমিদার বাড়ী

    হরিপুর উপজেলার কেন্দ্রস্থলে হরিপুর রাজবাড়ি। এই রাজবাড়ি ঘনশ্যাম কুন্ডুর বংশধরদের দ্বারা প্রতি”ষ্ঠত। মুসলিম শাসন আমলে আনুমানিক ১৪০০ খ্রিস্টাব্দে ঘনশ্যাম কুন্ডু নামক একজন ব্যবসায়ী এন্ডি কাপড়ের ব্যবসা করতে হরিপুরে আসেন। তখন মেহেরুন্নেসা নামে এক বিধবা মুসলিম মহিলা এ অঞ্চলের জমিদার ছিলেন। তাঁর বাড়ি মেদিনীসাগর গ্রামে। জমিদারির খাজনা দিতে হতো তাজপুর পরগনার ফৌজদারের নিকট। খাজনা অনাদায়ের কারণে মেহেরুন্নেসার জমিদারির কিছু অংশ নিলাম হয়ে গেলে ঘনশ্যাম কুন্ডু কিনে নেন।ঘনশ্যামের পরবর্তী বংশধরদের একজন রাঘবেন্দ্র রায় ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে বৃটিশ আমলে হরিপুর রাজবাড়ির কাজ শুরু করেন। কিন্তু তাঁর সময়ে রাজবাড়ির কাজ শেষ হয়নি। রাঘবেন্দ্র রায়ের পুত্র জগেন্দ্র নারায়ণ রায় ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষদিকে রাজবাড়ির নির্মাণ কাজ সমাপ্ত করেন। এসময় তিনি বৃটিশ সরকার কর্তৃক রাজর্ষি উপাধিতে ভূষিত হন। জগেন্দ্র নারায়ণ রায়ের সমাপ্তকৃত রাজবাড়ির দ্বিতল ভবনে লতাপাতার নকশা এবং পূর্ব দেয়ালের শীর্ষে রাজর্ষি জগেন্দ্র নারায়ণের চৌদ্দটি আবক্ষ মূর্তি আছে। তাছাড়া ভবনটির পূর্বপাশে একটি শিব মন্দির এবং মন্দিরের সামনে নাট মন্দির রয়েছে। রাজবাড়িতে ছিল একটি বড় পাঠাগার যার অস্তিত্ব এখন নেই। রাজবাড়িটির যে সিংহদরজা ছিল তাও নিশ্চিহ্ন হয়েছে। ১৯০০ সালের দিকে ঘনশ্যামের বংশধররা বিভক্ত হলে হরিপুর রাজবাড়িও দু’টি অংশে বিভক্ত হয়ে যায়। রাঘবেন্দ্র-জগেন্দ্র নারায়ণ রায় কর্তৃক নির্মিত রাজবাড়িটি বড় তরফের রাজবাড়ি নামে পরিচিত। এই রাজবাড়ির পশ্চিমদিকে নগেন্দ্র বিহারী রায় চৌঃ ও গিরিজা বল্লভ রায় চৌঃ ১৯০৩ সালে আরেকটি রাজবাড়ি নির্মাণ করেন যার নাম ছোট তরফ।


  • যে মাছ সাঁতরায় না, ঠোঁটে লিপস্টিক পরে হেঁটে বেড়ায়

    বিস্ময়ে পরিপূর্ণ আমাদের এই দুনিয়া, বিস্মিত হতে আমরা পছন্দও করি বটে। কতটুকু বিস্মিত হবেন? যদি জানতে পারেন মাছ হাটে?
    অনেকেই খুব একটা অবাক হবেন না, অনেকেই কৈ মাছকে কানে হেটে যেতে দেখেছেন। কৈ মাছ যদিও ডাঙ্গায় উঠলে পানির খোঁজে মাথার দুই পাশের কানকো দিয়ে চলাফেরা করে, যাকে আমরা সাধারনত কানে হাটা বলে থাকি, কিন্তু তবুও পানির মধ্যে কৈ মাছ সাধারণ মাছের মতোই সাঁতরায়। কিন্তু গালাপাগোস দ্বীপপুঞ্জের আশেপাশের সমুদ্রে পাওয়া এক প্রজাতির পানির মধ্যেই হেটে বেড়ায়।

    দক্ষিন আমেরিকার ইকুয়েডোর এর সমুদ্রে কয়েকটি দ্বীপ নিয়ে গঠিত প্রদেশ গালাপাগোস। ওয়াইল্ডলাইফ পর্যবেক্ষণের জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম। ১৮৩৫ সালে চার্লস ডারউইন আসেন এ দ্বীপে, জীববৈচিত্র্য পর্যবেক্ষণ করতে, এ দ্বীপে তার আবিষ্কার কম নয়।

    তার এ পদাঙ্ক অনুসরন করে সি এল হাবস ১৯৫৮ সালে হটাত খুজে পান একটি অদ্ভুত প্রজাতি, যার বৈজ্ঞানিক নাম Ogcocephalus darwini, আমরা যাকে চিনি রেড লিপড ব্যাট ফিশ বা গালাপাগস ব্যাট ফিশ নামে (Red-lipped batfish)। মুখের অগ্রভাগে থাকা লাল লিপস্টিক দেয়া নারীর মতো অদ্ভুত লাল ঠোঁট থাকার কারণেই নাম রেড লি পড় আর মাছটি কিছুটা বাদুরের মতো দেখতে বলে ঠাট ফিশ। অদ্ভুত জাতের এই মাছ একদমই ভালো সাঁতরাতে পারে না। তার অভিযোজিত পেকটোরাল, পেল্ভিক এবং আনাল (বক্ষ ও শ্রোণী) পাখনা দিয়ে হেটে বেড়াতেই অধিক পারদর্শী এই মাছ।

    অনেকটা শরীর হেলিয়ে দুলিয়ে সমুদ্রের তলদেশে হেটে বেড়ায় এই মাছ। যখন গতির প্রয়োজন পরে তখন বক্ষ পাখনা দিয়ে টান দিয়ে এবং এর শক্তিশালী লেজকে দ্রুত ঝাকিয়ে সামনে এগিয়ে যায় Red-lipped batfish। অদ্ভুত এই মাছটি পাওয়া যায়, পেরু ও গালাপাগোস দ্বীপ এর আশেপাশের সমুদ্রে, ৩ থেকে ৭৬ মিটার গভীর পানিতে, এই নির্দিষ্ট অঞ্চল ছাড়া ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ আরো দুই এক জায়গায় এই প্রজাতির মাছ ধরা পরে থাকলেও তা খুবই দুর্লভ।

    মূলত সমুদ্রতলের বাসিন্দা অদ্ভুত লাল ঠোঁট বিশিষ্ট এই রেডলিপড ব্যাট ফিশ। তবে তীর হতে দূরে সমুদ্রের উপরিভাগেও মাঝে মাঝে উঠে আসে এই প্ৰজাতি। হয়তো সানবাথ করতে, আহার করে শিকার করে, তার প্রধান খাদ্য ছোট ছোট মাছ, শামুক গোত্রের প্রাণী, কাঁকড়া এবং কেঁচোর সামুদ্রিক জাতভাই। শিকারে সহায়তার জন্য তার মাথায় রয়েছে আকর্ষণীয় ইলিসিয়াম। সাধারণত বয়সের পরিপূর্ণতার সঙ্গে সঙ্গে ইলিসি য়াম মাথার উপরে বৃদ্ধি লাভ করে পিঠের পাখনাগুলো জোড় হয়ে ইলিসিয়াম এর উপরিভাগে এস্কা বলে একটি অংশ থাকে।

    রেড লিপড ব্যাট ফিশ এর রং পিঠের দিকে হাল কা খয়েরি থেকে ধুসর, পেটের দিকে সাদাটে। মাথা থেকে পিঠের উপর দিয়ে চলে গেছে ঘন খয়েরী দাগ, সঙ্গে আছে লাল ঠোঁট । ধারনা করা হয় এই লাল ঠোঁট প্রজনন মৌসুমে প্রজাতিকে আলাদা করে চিনতে, এবং জননের জন্য নিজ প্রজাতির জনন উৎসাহী মাছকে আকর্ষণ করতে সাহায্য করে থাকে। এই মাছটির মেরুদণ্ডের মধ্যে রয়েছে ১৯ বা ২০ টি কশেরুকা, মাছ টি প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়।

    অদ্ভুত এই প্রজাতির মাছের প্রধান অবস্থান সমুদ্রে র তলদেশে, যেখানে আলো তেমন একটা থাকে না বললেই হয়। অথচ সাধারনত মেরিন আকুরিয়াম গুলোয় উজ্জ্বল আলোর বাবস্থা করা হয়ে থাকে দর্শনার্থী এবং গবেষকদের সুবিধার জন্য, এই উজ্জল আলোতে রেড লিপড ব্যাট ফিশ রাখা সম্ভব নয় তাই এই মাছ দেখতে হলে অবশ্যই আপনাকে যেতে হবে এর বাসস্থানে, সমুদ্রের তলদেশে।


  • সাতমাথা মোড়, বগুড়া।

    সাতমাথা মোড়, বগুড়া।


  • কর্ণফুলী টানেলঃ দক্ষিন এশিয়ার সর্বপ্রথম পানির নিচের পাতাল পথ. নির্মাণ প্রায় শেষ. এখন শুধুই উদ্বোধনের অপেক্ষা

  • কর্ণফুলী টানেলঃ দক্ষিন এশিয়ার সর্বপ্রথম পানির নিচের পাতাল পথ. নির্মাণ প্রায় শেষ. এখন শুধুই উদ্বোধনের অপেক্ষা

  • অবেহেলায় বেড়ে উঠা কচুরি পান্নার ফুল, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখে।